Friday, July 1, 2016

বান্দরবান, প্রকৃতিপ্রেমিদের স্বর্গ, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অকৃত্রিম সৌন্দর্য । এর গহীনে এমন কিছু দারুণ জায়গা আছে যার খবর বেশীরভাগ সাধারণ মানুষই জানিনা, নাফাকুম তার মধ্যে অন্যতম । দুর্গম বলে মানুষ জন একটু কম যায় ওখানে, যার কারণে এখনো এখানে বিরাজ করে স্বর্গীয় সৌন্দর্য ।
কিভাবে যাবেন?
»» ভ্রমণ শুরুর দিন- রাতের বাসে ঢাকা ত্যাগ। (কল্যানপুর/কলাবাগান/সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন বাস যায়)
»» প্রথম দিন - সকালে বান্দরবান শহরে পৌঁছলেন, তারপর থানচি যাবেন লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে । তারপর তিন্দু- পদ্মমুখ-থুইসাপাড়া
»» দ্বিতীয় -দিন -- থুইসা পাড়া- আমিয়াকুম-সাতভাইকুম-সাতভাইপাথর- নাক্ষিয়াং মুখ- থুইসা পাড়া
»» তৃতীয় দিন - থুইসা পাড়া- জিনাপাড়া- নাফাকুম- পেনেডিং পাড়া- রেমাক্রি বাজার
»» চতুর্থ দিন - রেমাক্রি বাজার-রাজা পাথর- তিন্দু- থাঞ্চি- বান্দরবান শহর- ঢাকা।
জনপ্রতি খরচ কম বেশি ৬০০০ টাকার মত লাগতে পারে ।
আপনি নিজ দায়িত্বে থানচি পর্যন্ত যেতে পারলেই হল, বাকি পথ পাড়ি দিতে আপনাকে গাইড নিতে হবে । গাইডই আপনাকে বাকি ৩-৪ দিন স্পট গুলো ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে ।
পাহাড়ী এলাকায় আপনাকে আদিবাসীদের ঘরে থাকতে হবে, প্রতি রাত ১০০-১৫০ টাকা দিতে হয় । রান্নার জিনিস পত্র (মসলা/তরকারী) আপনাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে, গাইড রান্না করে খাওয়াবে । মনে রাখবেন, ওখানে কোন বাজার পাবেন না, আদিবাসীদের কাছ থেকে বড় জোর চাউল আর পাহাড়ী মুরগী কিনতে পারবেন, বাকি গুলো আপনাকে থানচি থেকে কিনে নিয়ে যেতে হবে, যে কয়দিন ঘুরবেন অগুলো সাথে বহন করতে হবে ।
তবে যারা নাফাকুম যেতে চান তাদের জন্যে বেটার হয় যদি একই সাথে আমিয়াকুম- সাতভাইকুম ও দেখে আসে, তখন থানচি থেকে এক রুট দিয়ে ঢুকে অন্য রুট দিয়ে পুনরায় থানচি আসা যায়, যার কারণে একই খরচে ৩-৪ টা দারুণ জায়গা ঘুরে আসা যায়, তবে কষ্টটা একটু বেশি হয় তখন । অনেক হাঁটা লাগে, হেঁটে হেঁটেই আপনাকে প্রকৃতির স্বাদ আস্বাদন করতে হবে ।
এইসব জায়গায় ফ্যামিলি নিয়ে যাওয়া যাবেনা, যারা অ্যাডভ্যাঞ্চার পছন্দ করেন, যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিকে হাসি মুখে মেনে নিতে পারেন তাদের জন্যেই এই অসাধারণ জায়গাগুলো । থানচির পরে ওই গহীন জায়গাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকেনা ।
জানেনই তো, জিনিস যেটা ভাল তার দাম একটু বেশিই হয় ।
ঠিক তেমনি যেটা একটু বেশি সুন্দর, অন্যান্য স্পটের চাইলে যেগুলো একটু আলাদা, তার জন্যে আপনাকে একটু বেশিই কষ্ট করা লাগবে । আর হ্যাঁ, সাথে লাইফ জ্যাকেট আনতে ভুলবেন না ।
ব্যাগ পত্র গুছিয়ে আজকেই রওনা দেন, নয়তো কিছুদিন পরে এই সৌন্দর্য আর থাকবেনা, কারণ আমরা পর্যটন শিল্প রক্ষার চাইতে ধ্বংস করতে বেশি ওস্তাদ; রাতারগুল আর খইয়াছড়া তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।


বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত স্বর্গীয় একটা জায়গা ।
যেতে হবে থানচি, তারপর পদ্মমূখ থেকে থুইসা পাড়া ,অতিরাম পাড়া হয়ে সাতভাইখুম 
এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং এর গল্পঃ
এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি। আন্তজার্তিক ট্রাভেল ম্যাগাজিনের থেকে পরপর দুবার এ স্বীকৃতি পায় গ্রামটি। এর আগে ২০১৩ সালেও এ গ্রামটি এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পায়।
ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার এই গ্রামটিতে স্বাক্ষরতার হার ১০০ শতাংশ। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তি মায়ের থেকে পরিবারের সবথেকে ছোট মেয়ের হাতে যায়।
ছবির মতো এমন গ্রাম হয়তো এদেশে কেন, গোটা বিশ্বেই অসংখ্য আছে। কিন্তু প্রকৃতি মানুষকে ঢেলে দিলেও কতজন তা রক্ষা করতে পারে।
মাওলিননংয়ের খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা তা পেরেছেন। আর পেরেছেন বলেই এশিয়া এবং ভারতের সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রামের শিরোপা পেয়েছে মাওলিননং। কয়েকদিন আগেই যে গ্রামটিতে ঘুরে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রামটির আরো কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
ছবির মতো পাহাড় এবং ঝর্নায় ঘেরা এই গ্রামটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। ২০১৫ সালের হিসেব অনুযায়ী, এই গ্রামটিতে মাত্র পাঁচশোজন বাসিন্দা ছিলেন। মোট পরিবারের সংখ্যা ৯৫। গ্রামে স্বাক্ষরতার হার একশো শতাংশ। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তি মায়ের থেকে পরিবারের সবথেকে ছোট মেয়ের হাতে যায়। এমনকি, মেয়েরা মায়ের পদবীই ব্যবহার করেন। মূলত সুপারি উৎপাদন করেই জীবিকা নির্বাহ করেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।
বাসিন্দারাই গ্রামকে পরিপাটি করে রাখেন।
কিন্তু কীভাবে এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রামের তকমা পেল মাওলিননং? এই গ্রামের যাবতীয় বর্জ্য বাঁশ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ডাস্টবিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়। তারপরে সেই বর্জ্য থেকেই সার তৈরি করা হয়।
একাধিকবার সেই সম্মান জিতে নিয়েছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের কোনও বাসিন্দাই যত্রতত্র আবর্জনা ফেলেন না বরং এখন তারা প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার ওপরে জোর দিয়েছেন। গ্রামের জঙ্গল এবং সবুজায়ন রক্ষা করতে মাওলিননংয়ের বাসিন্দারা নিয়মিত গাছ লাগান।
শিলং থেকে মাওলিননংয়ের দূরত্ব মাত্র ৯০ কিলোমিটার। ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তে পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্নায় ঘেরা এই গ্রামটি মেঘালয়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। গ্রামের পাহাড়ি একটি ঝর্নার উপরে গাছে শিকড়ের তৈরি সাঁকোও পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের জিনিস।


সামনে যারা কক্সবাজার যারা বেড়াতে যাবেন, তাদের জন্যে দারুন কিছু পরামর্শঃ
১। পিক টাইমে কক্সবাজার বেড়াতে যাবার প্ল্যান না করাই ভালো। হোটেলের ভাড়া সহ যে কোন স্বাভাবিক খরচ আপনার কয়েকগুন বেশি হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আপনি কোথাও ঘুরে শান্তি পাবেন না।
২। অফ পিক টাইমে কক্সবাজারে বেড়াতে গেলে আপনি ১২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় অনেক ভালো হোটেল পাবেন। আপনাদের যদি প্ল্যান থেকে যে, দিনের অধিকাংশ সময় আপনারা বীচে আর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে কাটাবেন, তাহলে হোটেলে বেশি খরচ না করাই ভালো। আর যদি একদম রিলাক্স করার জন্য যান, তাহলে হোটেলটা ভালো নিতে পারেন। এটা অবশ্যই যার যার বাজেটের উপর নির্ভর করবে। যদি কারো বাজেট পার নাইট ৫/৬ হাজার হয়, তাহলে আমি রেকমেন্ড করব হোটেল স্যায়মান এ থাকার জন্য। এই হোটেলে থাকলে একটাই সমস্যা হবে, আপনার আর অন্য কোথাও থাকতে ইচ্ছে করবে না। আমার মতে এই মুহুর্তে কক্সবাজারের সেরা হোটেল হচ্ছে এটি।
৩। অফ পিকে কক্সবাজার থেকে ইনানী বীচে ৭০০/৮০০ টাকায় আপনি অটোতে যেতে পারবেন। আর পিক টাইমে গেলে ১২০০ - ১৫০০ টাকার কমে যাবে না। আমি ৮০০ টাকায় গিয়েছি। আমরা খুব ভাগ্যবান যে চমৎকার একজন মানুষকে আমাদের টমটম গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে চোখে হাত দিয়ে দেখিয়েছেন মানুষকে পয়সা দিয়ে বিচার করার কোন সুযোগ নেই। গরীব মানুষের হৃদয় অনেক বড় হয়। আমাদের প্রতি তার আন্তরিকতা সৎ পরামর্শ এবং আতিথিয়েতা সেটাই প্রমান করে। কক্সবাজারে আমরা যে ৫ দিন ছিলাম, তিনি আমাদের সাথেই ছিলেন কখনও গাইড হয়ে, কখনও ফটোগ্রাফার হয়ে, কখনও চালক হয়ে। কেউ যদি চান, তার নাম্বারটা আমি দিয়ে দিতে পারি।
৪। মেরিন ড্রাইভ রোডের মাঝামাঝি পেঁচার দ্বীপের আগে একটা রিজোর্ট করেছে নাম সাম্পান। যদি জোয়ার থাকে তাহলে সেখান থেকে সুর্যাস্ত দেখাটা দুর্দান্ত একটা অভিজ্ঞতা হতে পারে। বলা বাহুল্য সেখানে বসতে আপনাকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না। চাইলে আপনি অর্ডার করতে পারেন। যাওয়া যাওয়া সব মিলিয়ে আপনার ৫০০/৬০০ টাকার মত খরচ হতে পারে। টুরিষ্ট পুলিশ আছে। অন্তত সন্ধ্যা ৮ টা নাগাদ নিরাপত্তার তেমন কোন সমস্যা নেই বলেই আমার মনে হয়েছে।
৫। কক্সবাজারে যদি আপনি নতুন হন, আর টমটমের ভাড়া সম্পর্কে না জানেন, তাহলে আপনাকে তারা একেবারে জবাই করে দিবে। যেমন কলাতলী রোডের ওশান প্যারাডাইস হোটেল থেকে বিখ্যাত পৌষি রেষ্টুরেন্টের ভাড়া ৪০/৫০ টাকা। আপনাকে একটু নতুন মনে হওয়া মাত্রই সেই ভাড়া চাওয়া হবে ৯০ - ১২০ টাকা পর্যন্ত। সুতরাং যেখানেই যান না কেন, ভাড়া আগেই ঠিক করে যাবেন। তবে আশার কথা অধিকাংশ টমটম ড্রাইভারই ভালো।
৬। খাওয়া দাওয়া যেখানেই করেন না কেন, আমি অনুরোধ করব, যে কোন একদিন সকালে পৌষি রেষ্টুরেন্টে নাস্তা করতে। তাদের খিচুড়িটা মনে রাখার মত। তবে যা আপনাকে খেতেই হবে তা হলো পরটা বা নান দিয়ে আলু গোসতের ঝোল। অমৃত মনে না হলে, পোস্টে রিপোর্ট করতে পারেন। কলাতলী রোডে যে কোন হোটেলে খাওয়ার চাইতে, একটু কষ্ট করে এসে যদি এই হোটেলে খান, তাহলে অন্তত আপনি দাম দিয়ে ভালো জিনিস খাবেন, আপনাকে স্বাদ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
৭। শুটকি যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য অনুরোধ, কলাতলী রোড বা বার্মিজ মার্কেট থেকে শুটকি কিনবেন না। শুটকি কিনতে একটু কষ্ট করে পুরাত শুটকি মার্কেট বা বড় বাজারের শুটকি মার্কেটে চলে যান। সেখানে আপনি অনেক দোকান পাবেন। আপনি প্রথমেই সব দোকানে একটু ঢুঁ মারবেন, বিভিন্ন দামের শুটকি দেখেন। আপনার চেষ্টা থাকবে ১০ টাকা বেশি দিয়ে হলেও কীটনাশক ও লবন মুক্ত শুটকি মাছ কেনার জন্য। আমি অবশ্য একটা নাম সাজেস্ট করতে পারি। তিনি হলেন বশির সওদাগর। তার কাছ থেকে কক্সবাজারের বড় বড় হোটেল এবং স্থানীয়রা শুঁটকি কিনে থাকেন। তার কাছে লইট্ট্যা শুটকির ৩ পদ দেখেছি, সর্ব নিম্ন ৩৮০, মাঝারিটা ৪৫০ টাকা আর সবচেয়ে ভালোটা ৫৫০ টাকা। ঢাকাতে এই ৩৮০ টাকার শুঁটকি ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। ছুরি শুঁটকি পাবেন ৯০০ টাকা কেজি। রুপ চান্দা পাবেন ১৫০০ টাকা কেজি। রুপ চান্দা দুইটা আছে। একটা কালো আর একটা সাদা। কালোটার দাম কিছুটা কম আর সাদাটার দাম কিছুটা বেশি। সবাই যদিও সাদাটাই খুঁজে, আমি কালোটাই কিনেছি। এটার স্বাদ আমার ভালো লেগেছিলো।
৮। বার্মিজ মার্কেটে রাতে বেড়াতে গেলে সাবধান। এখানে পকেটমার ও নানান ধরনের আজেবাজে লোক ঘুরাফেরা করে। এই সব কাজ দিনের বেলা সেরে ফেললেই ভালো। মনে রাখবেন ঘুরতে গিয়ে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ঘুমানো কোন কাজের কথা না।
কারো যদি কাজে আসে তাহলে এই লেখা সার্থক।


ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটির পেদা টিং টিং
স্পিড বোটে করে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক যারা ঘুরেছেন তারা নিশ্চই দেখেছেন সেই বিশাল লেকের মাঝে অনেক ছোট বড় বিচ্ছিন্ন পাহাড় আছে। এদেরই একটি পাহাড় বা দ্বীপের নাম পেদা টিং টিং। মূলত এটি একটি পিকনিক স্পট। পেদা টিং টিং একটি চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। খুব করে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা হয়, সেটাকেই বলা হয় পেদা টিং টিং।
বেশ গোছানো একটা স্পট, ঢুকতেই চোখে পড়বে বাঁশের আর ছনের তৈরী খুব সুন্দর আধুনিক একটা হোটেল। এটার নামটিও পেদা টিং টিং। বিভিন্ন ডিজাইনের বাশেঁর বেশ কয়েকটা ঘর আছে এখানে, প্রত্যেকটাই পাহাড় আর লেকের সাথে বেশ ভাল মনিয়েছে। এমনই এক পরিবেশ যেখানে খাবার পানিই পাওয়া যাওয়া কথানয়, সেখানে এই রেষ্টুরেন্ট আপনার জন্য চা, কফি আর চিকেন ফ্রাই নিয়ে অপেক্ষা করছে। সত্যিই অবাক করার মত ব্যাপার। এছাড়াও এখানে পাবেন স্থানীয় খাবার “বিগল বিচি”, “কচি বাঁশের তরকারী”, “কেবাং”, “বাম্বু চিকেন”।
এখানে রয়েছে রেস্তোরা, কটেজ, নৌবিহার ব্যবস্থা, সেগুন বাগান এবং অসংখ্য বানরের আবাস। ইচ্ছে করলে মনোজ্ঞ কোন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে পারবেন এখানে। চাইলে রাত্রিযাপনও ব্যবস্থা রয়েছে এখানকার কটেজে। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি কক্ষ সদৃশ ঘর। চাঁদনী রাতে বিস্তৃত জলরাশি ঘেরা পাহাড়ের উপর রাত্রি যাপন- সত্যিই দুর্লভ।
উল্যেখযোগ্য খাবার- বাম্বু চিকেন বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা মুরগির মাংস যাকে বাঁশের পাত্রে পরিবেশন করা হয়। বিগল বিচি, বিগল বিচি দেখতে ছোট ছোট দানার মতো- হালকা করে তেলে ভাজা হয়। এমনিতে এর কোনো স্বাদ নেই। এটি মূলত খেতে হয় শুটকি মাছ ও কাঁচামরিচের ভর্তার সাথে। তখনই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কচি বাঁশের তরকারী এটি একটি অসাধারণ আইটেম। রাঙ্গামাটি এসে এই খাবারটি হতে কেউ বঞ্চিত হতে চায় না। অসাধারণ স্বাদ! পুঁই বা অন্যান্য শাকের সাথে এটি রান্না করা যায়, অথবা ভাজি। যে ভাবেই খান না কেন এটি হবে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। কচি বাঁশ খেতে খুবই নরম- মুখে দেওয়া মাত্র গলে যায়। আসলে এগুলোর স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না! বুঝতে হলে অবশ্যই খেতে হবে! কেবাং এটি আসলে খাবার রান্নার একটি পদ্ধতি। শক্তসামর্থ বাঁশের খোলের ভেতর শূকর ভরে সেখানে তেল-মশলা দিয়ে বাঁশটিকে পোড়ানো বা ঝলসানো হয়েছে। তবে আপনি শুকর খেতে না চাইলে কাঁচকি বা অন্যান্য মাছ, মাংস ইত্যাদির কেবাং করে খেতে পারেন। এর স্বাদ এবং অভিজ্ঞতা আপনার স্মৃতির পাতায় থাকবে সারাজীবন। কাঁচকি ফ্রাই এটি অবশ্য আদিবাসী কোন খাবার নয়। তবে এর স্বাদ অতুলনীয়। সাধারণ পদ্ধতিতেই বড় বড় কাচকি মাছ তেলের উপর ভাজা হয়। গরম গরম খেতে ভীষন মজার খাবার এটি। রাঙ্গামাটির অনেক হোটেলেই এই খাবারটি পাবেন।
যাবেন যেভাবে- ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান হতে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। ঢাকা হতে বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। শ্যামলী, সায়েদাবাদ, কলাবাগান হতে প্রতিদিনই গ্রীনলাইন, এস.আলম, ইউনিক সার্ভিস বাসগুলো ছাড়ে। এগুলোর মাধ্যমে সরাসরি চলে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি। অথবা ঢাকা বা অন্য জেলা হতে বাস, ট্রেনে কিংবা বিমানে করে যেতে পারেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হতে অনেকগুলো বিলাশবহুল ও লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত। সেগুলোর মাধ্যমেও পৌছতে পারেন রাঙ্গামাটি।



নীলগিরি, যেখানে গেলে আপনি নিজ হাতে মেঘ ছুঁয়ে দেখতে পারবেন, যেখানে আপনার পাশ দিয়ে উড়ে যাবে রাশি রাশি শুভ্র মেঘের দল, পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা মেঘমালার সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবেই ফ্যামিলি ট্যুরের জন্যে পারফেক্ট একটা জায়গা এই নীলগিরি
কিভাবে যাবেন? (একই সাথে চিম্বুক শৈলপ্রপাত সহ)
এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে বান্দরবান শহরে
যদি আপনারা - জন বা ১০-১২ জন হয়ে থাকেন তাহলে শহর থেকে একটা জীপ/চান্দের গাড়ি সারা দিনের জন্যে রিজার্ভ নিতে পারেন সিটের গাড়ি ২৩০০ টাকা আর সিটের গাড়ি ২৮০০ টাকা নিতে পারে (টাকা যাই হোক অবশ্যই ভাল মত দরদাম করে নিবেন)
একা বা - জন হলে লোকাল গাড়িতে চড়তে হবে
একটা জীপ/চান্দের গাড়ি ভাড়া করে চিম্বুক, শৈলপ্রপাত নীলগিরি ঘুরে আসবেন সন্ধ্যার মধ্যেই আর রাতের বাসে ঢাকায়
তবে বান্দরবান এর আসল ঐশ্বর্য দেখতে হলে আপনাকে আরও একটু ভিতরে ঢুকতেহবে। / দিন পাহাড়ে হাঁটাহাঁটিকরতে হবে। আপনাদের হাতে সময় না থাকলে উপরের প্ল্যান মতই আপনারা ঘুরতে পারেন
আর যদি আপনাদের বাজেট একটু বেশি হয় তবে আপনারা নীলগিরি রিসোর্টে থাকতে পারেন, তাহলে আপনারা খুব ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে মেঘ দেখতে পারবেন, ভাগ্য ভাল থাকলে নিজ হাতে ছুঁয়েও দেখতে পারবেন
যদি রাতে বান্দরবান শহরে থেকে নীলগিরির মেঘ দেখতে চাইলে আপনাকে খুব ভোরেই জীপ/চান্দের গাড়িতে করে নীলগিরির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে, বেশি দেরি করলে মেঘ দেখতে পারার চান্স কম
কিছু জরুরী কথাঃ
যেখানেই ঘুরতে যান না কেন খেয়াল রাখবেন আপনার দ্বারা প্রকৃতির যেন কোন ধরণের ক্ষতি না হয়
অপচনশীল দ্রব্য যেমন চিপসের প্যাকেট, ড্রিংকসের বোতল ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলবেন না

আমিয়াকুম, সাতভাইকুম এবং নাফাকুম- বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত তিনটি অসাধারণ জায়গা ।
ছবিতে কিংবা লিখে এর সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভব না, ৩-৪ দিন হাতে সময় নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাতগুলোর উদ্দেশ্যে, দেখুন কত দারুণ জায়গাই না আছে আমাদের এই বাংলাদেশে !!!
এখানে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে বান্দরবান, সেখান থেকে লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে করে থানছি (৮৪কিমি), থানছি থেকে নৌকায় ২ ঘণ্টার পথ রেমাক্রি ।
থানচি থেকে আপনাকে গাইড নিতে হবে, আর সাথে লাইক জ্যাকেট নিয়ে আসবেনঅবশ্যই ।
বিঃদ্রঃ কোথাও ঘুরতে গেলে খেয়াল রাখবেন আপনার দ্বারা বা আপনার সাথে যারা যাবে তাদের দ্বারা উক্ত স্থানের কোন ধরণের যেন ক্ষতি না হয়, যে কোন ধরণের উচ্ছিষ্ট (প্যাকেট/বোতল) যেখানে যেখানে না ফেলে সাথে করে নিয়ে আসবেন