জেনে নিন কিভাবে কম খরচেই কক্সবাজার,
মহেশখালী, হিমছড়ি ও ইনানী ঘুরে আসবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে ভাড়া পড়বে ৭০০ টাকা থেকে ৮৫০
টাকার মধ্যে (নন এসি)। সৌদিয়া, এস আলম , হানিফ
এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর,
সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় আসা যাওয়া করা যায়। বেশ কিছু ভাল এসি বাস-ও
চলে এই রুটে, ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা । যদি ট্রেনে যেতে চান, তাহলে কমলাপুর থেকে উঠতে
হবে, চট্টগ্রাম নেমে ওখান থেকে কক্সবাজারের জন্যে বাসে উঠতে হবে, ভাড়া ২৪০ টাকা ।
১ । সকালে গাড়ি থেকে নেমে যেকোনো হোটেলে
উঠতে পারেন । ফ্রেশ হয়ে হাল্কা নাশতা করে নেমে যেতে পারেন সমুদ্রে তবে নামার আগে
অবশ্যই জোয়ার ভাঁটার সময় জেনে নিবেন।
২। তারপর হোটেল এ এসে কাপড় পরিবর্তন করে
শৈবাল সুইমিং পুল এ যেতে পারেন ।জন প্রতি ১৫০ টাকা লাগবে প্রবেশ মূল্য।
৩। দুপুরের খাবার যেকোনো বাংলা হোটেল
থেকেই খেতে পারেন খুবই কম খরচে।
৪। খাবার খেয়ে হালকা রেস্ট নিয়ে চলে যেতে
পারেন দেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালীর উদ্দেশ্যে । ৬ নং ঘাট নামক স্থান থেকে
মাত্র ১৫ মিনিট স্পীড বোটে চড়ে যেতে পারেন এই দ্বীপে, ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৭৫ টাকা ।
মহেশখালী ঘাটে নেমে একটা রিক্সা বা অটো নিয়ে আশেপাশের স্পট গুলো ঘুরে দেখতে পারেন,
ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা, অবশ্যই ভাল মত দরদাম করে নিবেন । স্পীড বোটে চড়ার অনুভুতিটার
সাথে কোন কিছুর তুলনা হবে না, একবার গিয়েই দেখুন না ।
৫ । সন্ধ্যার আগেই মহেশখালী থেকে ফিরে
বাকিটা সময় ব্যয় করতে পারেন কেনাকাটা করার জন্য । কম টাকায় কেনাকাটা করতে চাইলে
আপনাকে যেতে হবে বার্মিজ মার্কেটে ।
৬। রাতের বেলা সমুদ্র পাড়ে বসে কাটাতে
পারেন আর শুনতে পারেন সমুদ্রের শো শো গর্জন ।বসে থাকার জন্য চেয়ার ভাড়া করা প্রতি
ঘণ্টা মাত্র ৩০ টাকা ।
৭। পরের দিন সকালে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে
খুব ভোরেই আপনাকে যেতে হবে সমুদ্র পাড়ে।
৮। সকাল বেলার নাশতা টা খুব কম খরচে করতে
পারেন যেকোনো বাংলা হোটেল থেকেই । রিটার্ন টিকেট কেটে হোটেলে এসে সকাল সকাল বেরিয়ে
পড়তে পারেন হিমছড়ি, ইনানির উদ্দেশে।
তবে যাবার আগে অবশ্যই হোটেল চেক আউট করে
যাবেন আর ব্যাগপত্র লবিতে চেক-আউট লাগেজ হিসেবে রেখে যেতে পারেন। ফিরে এসে নিতে
পারবেন, এই জন্য আপনাকে কোন অতিরিক্ত টাকা পয়সা দিতে হবে না ।
কক্সবাজার শহর থেকে ইনানীর দূরত্ব মাত্র
২২ কিলোমিটার। খোলা জীপ, রিকশা কিংবা ব্যাটারী চালিত রিকশাতে করে সেখানে যাওয়া
যাবে। খোলা জীপে গেলে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা পড়বে। রিজার্ভ নিলে এটি পড়বে ১২০০
-১৫০০টাকা।রিকশা করে যেতে হলে ভাড়া লাগবে ৩০০-৪০০ টাকা। আর সি এন জি নিয়ে গেলে আসা
যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৫০০-৬০০টাকা। সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় এর সৌন্দর্য উপভোগ
করতে পারবেন যাওয়ার পথেই।
যাত্রা পথেই কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২
কিলোমিটার আসলেই পাবেন হিমছড়ি । উপভোগ করতে পারবেন পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণা।
হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি গেলেই আপনি
পৌছে যাবেন ইনানী, যাকে বলা হয়, মিনি সেন্টমার্টিন। উপভোগ করতে পারবেন বিস্তীর্ণ
পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে প্রচুর প্রবাল বেলাভূমিতে জমা হয়েছে । বিচে
চলার উপযোগী চার চাকার বেশ কয়েকটি বাইক সৈকতে চলাচল করে। ১ কিলোমিটার দূরত্বে
ভ্রমণ করতে রাউন্ড প্রতি ৫০ টাকা করে দিতে হবে আপনাকে।
কক্সবাজার শহরে ফিরে আপনি হোটেল থেকে
ব্যাগ পত্র বুঝে নিয়ে বিকেল এর সময়টা কেনা কাটা করতে পারেন অথবা সমুদ্র পাড়ে চেয়ার
ভাড়া করে শেষ সময় টা সূর্যাস্ত দেখতে পারেন গাড়ির সময় এর আগ পর্যন্ত।
ঈদের ছুটিতে সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্টের
চাপ থাকে প্রচুর, আর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনে চাপ তো থাকেই । তাই আগেভাগেই বাসের
টিকেট, হোটেল বুকিং ও শীপের টিকেট বুকিং দিয়ে গেলে ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া, অযথা
দৌড়াদৌড়ি করতে হয়না । বিশেষ করে শিপের টিকেট টা আগে থেকে বুকিং দিয়ে না গেলে আপনি
টেকনাফ গিয়ে পাবেন কিনা শিউর না কারণ শীতকালে প্রতিদিন ৪-৫ টা শিপ গেলেও এই ঈদের
সময় মাত্র ২ টি শিপ সেন্টমার্টিন যাবে ।
বাসের টিকেট, রেন্ট এ কার, কক্সবাজার ও
সেন্টমার্টিনে হোটেল/রিসোর্ট এবং টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার শিপের টিকেটের
জন্যে আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ।
ফোন- ০১৮১৬ ৫৮ ৫৭ ৫৭
ফোন- ০১৮১৬ ৫৮ ৫৭ ৫৭

No comments:
Post a Comment