ঈদ বন্ধে সবার
ভেতর টাঙ্গুয়ার হাওড় যাওয়ার প্রবনতা লক্ষণীয়।ঘোরাঘুরির স্বার্থে টিওবিতে ভালই চোখ
রাখা হয়।গত ঈদের বন্ধে যে ক্রেইজটা সিলেটের বিছানাকান্দি বা পান্থুমাইয়ের ব্যাপারে
ছিল এই ঈদের বন্ধে সেটা অনেকটাই শিফটেড টাঙ্গুয়ার হাওড়ের দিকে মনে হল।বাট আমার
ক্ষেত্রে এই টাঙ্গুয়া এক্সপেডিশনটা হয়েছিল একটু আনট্র্যাডিশনাল ওয়েতে।টাঙ্গুয়ার
হাওড় হয়েই নেত্রকোনার বিরিশিরি পর্যন্ত যাওয়ার রুট প্ল্যান বানিয়ে সে অনুযায়ী ঘুরে
এসেছিলাম গত বছর।মূলত সুনামগঞ্জ+নেত্রকোনা+ময়মনসিংহ+জামালপুর+শেরপুর জেলা পাঁচটা
ঘুরে ফেলার মিশনের একটা পার্ট ছিল টাঙ্গুয়ার হাওড় ও বিরিশিরি ভ্রমণ।মিশন
একমপ্লিশড।বাট টাঙ্গুয়ার হাওড় সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।হাওড়টাকে একটু গভীর থেকে
দেখার যাদের ইচ্ছা তাদের জন্য এই রুট।এই বন্ধে ট্রাভেলার্স ভাই ব্রাদার যারা
যাচ্ছেন ওইদিকে তাদের সুবিধার্থে তাই রুট প্ল্যান+ট্রিপ ডিটেইলস টা দিয়ে দিচ্ছি(আপ
টু টাঙ্গুয়া ও নেত্রকোনা,পোস্টটাকে ইতিহাস না বানানোর স্বার্থে বাকীটা অন্য পোস্টে
অন্য কোনদিন
😜
😜)
শুরুতেই বলে নিচ্ছি এই রুটে হাওড় ঘুরতে গেলে প্ল্যানটা হতে হবে
কমপক্ষে তিনদিনের।
দিন-১ (সুনামগঞ্জ-লাউড়ের গড়-বারেকের টিলা-তাহিরপুর)
রাতের গাড়ীতে বাংলাদেশ এর যেকোন প্রান্ত থেকে চলে আসুন
সুনামগঞ্জ।হাছন রাজার বাড়ী+জাদুঘরে একটু ঢু মেরে অটোতে ব্রীজের গোড়া(জায়গাটার
একচুয়াল নাম মনে নাই,সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকতে বিশাল ব্রীজটা চোখে পড়বে
সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর রোডে)।ওখান থেকে বাইক ভাড়া করতে হবে।আগেই বলে নেবেন লাউড়ের গড়
ও বারেকের টিলা দেখিয়ে তাহিরপুর বাজারে নামিয়ে দিতে হবে।বারেকের টিলা জাফলং এর
কার্বন কপি।পার্থক্য একটাই,জাফলং এ ট্যুরিস্ট বেশী আর এখানে নাই।টিলার পাশে দিয়েই
বয়ে গেছে যাদুকাটা নদী।এ স্পট দুইটা দেখে তাহিরপুর যেতে প্রায় সন্ধ্যা হবে।যাওয়ার
রাস্তায় পড়বে শনির হাওড় আর হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মনভোলানো
দৃশ্য।সুর্যাস্তটা শনির হাওড়েও উপভোগ করে যেতে পারেন রাস্তার পাশে বাইক থামিয়ে।
রাতে থাকতে হবে তাহিরপুর ডাকবাংলো বা ইউএনও রেস্টহাউজ।বলাবাহুল্য এর বাইরে থাকার জায়গা নেই।আগে থেকেই বুক করে যাওয়া শ্রেয়।ডাকবাংলো শুনে যদি আহামরি কিছু মনে করেন পস্তাবেন।কোনরকম রাত কাটাতে পারবেন এই যা।
রাতে থাকতে হবে তাহিরপুর ডাকবাংলো বা ইউএনও রেস্টহাউজ।বলাবাহুল্য এর বাইরে থাকার জায়গা নেই।আগে থেকেই বুক করে যাওয়া শ্রেয়।ডাকবাংলো শুনে যদি আহামরি কিছু মনে করেন পস্তাবেন।কোনরকম রাত কাটাতে পারবেন এই যা।
দিন-২(টাঙ্গুয়ার হাওড়-বাগলী-মধ্যনগর)
সকালে উঠে নৌকা ভাড়া করে ফেলুন।পুরো হাওড় ঘুরিয়ে রাতে মাঝ হাওড়ে
থেকে পরদিন সকালে নেত্রকোনা নিয়ে ফেলতে হবে(
😁) এই কথা বললে মাঝি ভালই পিছটান দিবে।আমার
টার্গেট ছিল নেত্রকোনার কলমাকান্দা পর্যন্ত যাওয়ার।রাজি হয়নাই ভাল অংকের ভাড়া
সাধার পরেও।মধ্যনগর পর্যন্ত রাজি হয়েছিল(এটা কলমাকান্দা উপজেলার একটা ডাকঘর)।এর
বেশী ওরা সাধারণত যায় না।অতটুকুই ঠিক করে ফেলতে পারেন।দুপুরে+রাতে খাওয়ার
ব্যাবস্থা হাওড়ের ভেতরেই কোন গ্রামে মাঝিই ম্যানেজ করে দিবে।আমাদের একবেলাতেই হয়ে
গেসিল।।হাওড়ের সৌন্দর্য দেখেই পেট ভরপুর হওয়াতে ক্ষিধা টের পাইনি
😃।নৌকায় উঠার আগে শুকনা খাবার নিয়ে নিবেন
প্রচুর পরিমানে।শুরুতেই চলে যাবেন ওয়াচ টাওয়ার।বেশী সময় টাওয়ারে না কাটিয়ে লাইফ
জ্যাকেট থাকলে পাশেই পানিতে দাপাদাপি করে নিতে পারেন সময় নিয়ে।তারপর নৌকায় চড়ে বসে
রওনা দিন মধ্যনগর অভিমুখে।মেঘালয়ের পাশ ঘেষে যতই হাওড়ের গভীরে যতই ঢুকবেন ততই
মুগ্ধতা আপনার জন্য অপেক্ষা করবে।চলার পথেই পড়বে ছোট ছোট গ্রাম।আমরা নৌকা
ভিড়িয়েছিলাম বাগলী গ্রামের তীরে।সীমান্তবর্তী একটা ছোট গ্রাম।খাওয়াদাওয়ার
বন্দোবস্ত হয়েছিল গ্রামেরই বাজারের এক হোটেলে।বাগলী গ্রাম পর্যন্ত অনেক ট্যুরিস্টই
যায়।সেইফটি ইস্যুতে ওখানেই রাত কাটাতে পারবেন।বাট আমার মত "মাঝ হাওড়েই হিজল
গাছে বাধা নৌকায় দুলতে দুলতে আকাশের চাঁদ না দেখতে পারলে জীবনটাই বৃথা" এই
নীতিতে অটল থাকলে পেটপূজো+সূর্যাস্ত অবলোকন শেষে গ্রাম ত্যাগ করতে পারেন।আমাদের
নৌকা রাতেও ঘন্টাখানেক চালিয়ে মধ্যনগরের কাছাকাছি কোন এক জায়গায় হিজল গাছে বাঁধা
ছিল সারারাত।রাতের হাওড় কেমন সেটা নিয়ে কথা বাড়ালে পোস্ট শেষ হবে না।খালি এটা
কল্পনা করে নিন এক পাশে মেঘালয়ের পাহাড়,আরেকপাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি,হাওড়ের স্বচ্ছ
জলে চাঁদের আলোর প্রতিফলন এই তিনে মিলে ভিউটা কেমন হতে পারে,বাকীটা স্বচক্ষেই না
হয় দেখে নেবেন
দিন-৩(মধ্যনগর-কলমাকান্ধা-দুর্গাপুর-বিরিশিরি-সোমেশ্বরী নদী)
খুব ভোরে মধ্যনগর পৌঁছে যাবেন সব ঠিক থাকলে।ওখান থেকে লোকাল ট্রলার
ছাড়ে সকাল ৭ টা থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত।সময় লাগবে দুই ঘন্টা।হাওড়ের নেত্রকোনা
অংশের শুরু মোটামুটি মধ্যনগরের পর থেকেই।ট্রলার ভর্তি স্কুলের
বাচ্চাকাচ্চা,চাকুরীজীবি আর ঘাটে ঘাটে ট্রলার ভেড়া দেখে বুঝতে পারবেন হাওড় অঞ্চলের
জীবনযাত্রা কতটা জলপথ নির্ভর।কলমাকান্দা নেমেই বাইক ভাড়া করে চলে যাবেন
দুর্গাপুর।২২ কিলো রাস্তা।বিরিশিরিতে পৌঁছে আরেকটা বাইক ভাড়া করে(রাতে গেস্টহাউজে
ওঠার প্ল্যান না থাকলে সরাসরি কলমাকান্দা থেকেই ভাড়া করে নিতে পারেন) ঘুরে আসতে
পারেন রানীখং গির্জা,সোমেশ্বরী নদী,চীনামাটির লেক,গারো পাহাড়।একদিনেই সব ঘুরে আসতে
পারবেন।দিনশেষে রাতের বাস ধরে নিজ গন্তব্য রওনা দিতে পারেন।আর আমার মত
বেকার(তৎকালীন) থাকলে+আরো পশ্চিমে সরে আসার ইচ্ছা হলে রাতে গেস্টহাউজে থেকে পরদিন
ধোবাউড়া(ময়মনসিংহ),তারও পরদিন শেরপুর হয়ে চলে যেতে পারেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ
পর্যন্ত........
খরচাপাতিঃ-
>সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর বাইক ভাড়া ১০০০-১২০০(বাইক প্রতি)।আমরা ১২০০ দিসিলাম।
>তাহিরপুর ডাকবাংলো রুম ভাড়া ৪০০ টাকা
>নৌকা ভাড়া(ফুল ট্রিপ)-৪৫০০
আমরা মেম্বার তিনজন ছিলাম।নৌকা ১৫ জনের।পকেটের উপর দিয়ে ভালই ঝড় গেসিল।তবে যা দেখেছি তাতে মন ভরে আর টাকার কস্ট ফিল হয়নাই।মেম্বার বেশী হলে নৌকাভাড়া মাথাপিছু ব্যাস্তানুপিক হারে কমবে।
>রাতের খাওয়া-মাথাপিছু ১০০ টাকা।
>মধ্যনগর-কলমকান্দা ট্রলার ভাড়া পার হেড ৮০ টাকা।
>কলমাকান্দা-দুর্গাপুর বাইক ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা।
>বিরিশিরি-চীনামাটির লেক-গারো পাহাড় বাইক ভাড়া ৬০০ টাকা(বাইক প্রতি)
>সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর বাইক ভাড়া ১০০০-১২০০(বাইক প্রতি)।আমরা ১২০০ দিসিলাম।
>তাহিরপুর ডাকবাংলো রুম ভাড়া ৪০০ টাকা
>নৌকা ভাড়া(ফুল ট্রিপ)-৪৫০০
আমরা মেম্বার তিনজন ছিলাম।নৌকা ১৫ জনের।পকেটের উপর দিয়ে ভালই ঝড় গেসিল।তবে যা দেখেছি তাতে মন ভরে আর টাকার কস্ট ফিল হয়নাই।মেম্বার বেশী হলে নৌকাভাড়া মাথাপিছু ব্যাস্তানুপিক হারে কমবে।
>রাতের খাওয়া-মাথাপিছু ১০০ টাকা।
>মধ্যনগর-কলমকান্দা ট্রলার ভাড়া পার হেড ৮০ টাকা।
>কলমাকান্দা-দুর্গাপুর বাইক ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা।
>বিরিশিরি-চীনামাটির লেক-গারো পাহাড় বাইক ভাড়া ৬০০ টাকা(বাইক প্রতি)
প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বারঃ
শিবলী মাঝি(তাহিরপুর)ঃ০১৭৯২৩২৯৬৩৩
ক্রিপেষ বাবু(তাহিরপুর গেস্টহাউজ)ঃ০১৭২৪৯৬৮১৬১
এর বাইরে যেকোন দরকারে ফোন দিতে পারেন Sworup Chakraborty ভাইকে(ফোন-০১৭৪৬৮৬৩৩৬২)।সুনামগঞ্জেই বাড়ি।অত্যন্ত অমায়িক একজন মানুষ।
শিবলী মাঝি(তাহিরপুর)ঃ০১৭৯২৩২৯৬৩৩
ক্রিপেষ বাবু(তাহিরপুর গেস্টহাউজ)ঃ০১৭২৪৯৬৮১৬১
এর বাইরে যেকোন দরকারে ফোন দিতে পারেন Sworup Chakraborty ভাইকে(ফোন-০১৭৪৬৮৬৩৩৬২)।সুনামগঞ্জেই বাড়ি।অত্যন্ত অমায়িক একজন মানুষ।
ছবিঃবাগলী গ্রামে প্রবেশের মুখে তোলা

No comments:
Post a Comment