Monday, June 27, 2016

স্বচ্ছ নীল জলরাশি।
P.C-Ehasan Emon
স্থান-মেঘালয়,ইন্ডিয়া।
কিভাবে যাবেন-ঢাকা থেকে সিলেট যেয়ে তারপর তামাবিল বর্ডার যেতে হবে।বর্ডার পার হয়ে ২ ঘন্টা হেটে সুনং পেডেং গ্রাম।হাটতে না চাইলে গাড়িতেও যেতে পারবেন ৫০০-৮০০ রুপী দিয়ে।অখান থেকে নৌকা নিয়ে নিজে কায়াকিং করে অথবা মাঝিই আপনাকে নিয়ে যাবে এই অপরুপ মনোমুগ্ধকর স্থানে।এই জায়গার একটু সামনে একটা সুন্দর ঝরনা আছে। 
ভিসা ফি বাদে মাত্র ২৫০০ টাকায় দেশের বাইরে১ রাত ২ দিনের ট্রিপ।
দেশের বাইরে এতো কম টাকায় এতো কম সময়ে এতো সুন্দর জায়গা আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নাই। 
এখানকার পানি এতোটাই নীল আর কোথাও কোথাও সবুজ এবং স্বচ্ছ যে পানির নীচের প্রতিটা মাছই স্পষ্ট দেখা যায়।এবং এই গ্রামের একটু উপরেই দাড়াং নামের একটা সুন্দর গ্রাম আছে ওখান থেকে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কও পাওয়া যায়।
এখানে রাতে থাকার জন্য একটা কটেজ আছে।কটেজ খালি না থাকলে ৩০০ রুপিতে তাবুতেও থাকতে পারবেন।খাওয়ার খরচ প্রতিবেলা ১০০ রুপি।
এখানে যাবার উত্তম সময় শীতকাল।বর্ষাকালে নৌকাতে চড়া খুব রিস্ক এখানে।

যারা ঈদে সাজেক/খাগড়াছড়ি যাচ্ছেন-
অনেকেই প্রথমবার যাওয়ার কারনে এবং পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় ট্যুর প্ল্যানে উল্টাপাল্টা হয়ে যায়,যার জন্য অনেক সময় ট্যুরের মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়।
এখানে মোটামুটি ২/৩ দিনের প্ল্যান দেয়া হয়েছে।
দিন ০১:খাগড়াছড়ি শহরে নেমেই শাপলাচত্বরে জীপ/মাহিন্দ্র পাবেন।১২/১৫ জন যাওয়া যায়।দুইদিনের সাজেক যাওয়াআসার জন্য নর্মালি ৬-৭ হাজার নেয়,তবে ঈদের সময় কিছুটা বেশি নিতে পারে।দরদাম করে নেবেন।যদি ১/২ জন হন সেক্ষেত্রে দিঘীনালা চলে যাবেন লোকাল গাড়িতে, সময় লাগবে ৩০ মিনিট, ভাড়া ৪০-৬০ টাকা প্রতিজন।দিঘীনালা থেকে বাইক পাবেন দুজন ৬০০ টাকা নেবে সাজেক দিয়ে আসার জন্য।
ঈদের সময় তাই শহরে জীপ নাও পেতে পারেন,সেক্ষেত্রে লোকাল পরিবহনে দিঘীনালা যেয়ে দিঘীনালা থেকে জীপ নিতে পারেন।
দিঘীনালার আরেকটু সামনে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে এসকর্ট যায় সকাল ১০:৩০ এ,তাই কোথাও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বাঘেরহাট যেয়ে আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করে ফেলাই ভালো।আরেকটি এসকর্ট যায় বিকেল ৩টায়।কোন কারনে সকালের এসকর্ট মিস করলে বিকেলে যেতে হবে।খাগড়াছড়ি থেকে বাঘাইহাট ১ঘন্টার মত লাগে।
বাঘাইহাট পৌঁছে সাজেকে যেখানে থাকছেন/বুকিং করা আছে তাদের ফোন করে খাবারের অর্ডার করে দেবেন,কারন যেতে যেতে প্রায় লাঞ্চ টাইম হয়ে যায়,অর্ডার করা থাকলে যেয়েই রেডি খাবার পাবেন।
সাজেকে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে চলে যেতে পারেন কংলাক পাড়ায়।এটি সাজেকের সর্বোচ্চ চুড়া।এখানে ত্রিপুরা এবং লুসাই আদিবাসীদের বসবাস। রুইলুই পাড়া থেকে এর দুরত্ব প্রায় তিন কি.মি.।হেটেই জেতে হবে,গাড়ি মাঝেমধ্যে যায় তবে প্রায়ই রাস্তা খারাপ থাকে।
দিন০২: সকালে নাস্তা করে পাড়ায় কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করতে পারেন,সাজেক থেকে সকালের আর্মি এসকর্ট ১১টায়।বিকেলেরটা ৩টায়।
ফেরার সময় অবশ্যই নামবেন বাঘেরহাটের হাজাছড়া ঝর্নায়,রাস্তা থেকে সহজ ট্রেইলে ১০/১৫ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন ঝর্না।এখন প্রচুর পানি পাবেন।
খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে লাঞ্চ সেরে সময় নষ্ট না করে চলে যাবেন রিসাং ঝর্নায়।রিজার্ভ গাড়ি থাকলে ভালো,লোকাল পরিবহণও আছে।
রিসাং থেকে ফেরার পথে ঘুরে আসবেন আলুটিলা প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ।
শহরে ফিরে যদি সময় থাকে ঘুরে আসতে পারেন জেলাপরিষদ পার্ক,শহরের পাশেই।ঝুলন্ত কাঠের সেতু এবং লেক আছে এখানে।
রাতের ঢাকার সব বাস ছাড়ে রাত ৯টায়।
*একদিন সময় বেশি থাকলে ঘুরে যেতে পারেন দিঘীনালার তৈদুছড়া ঝর্না থেকে।কয়েকটি ঝর্না ছাড়াও অসাধারণ ট্রেইল রয়েছে এখানে।কিছু রিস্কি জায়গা আছে তাই ট্রেকিং এ অভস্ত্যরাই যাবেন।
*নিরাপত্তার কারনে সিজুক ঝর্নায় এখন আর্মি যেতে দিচ্ছেনা,তাই এটি লিস্টে না রাখাই ভালো।
*সময় করে যেতে পারেন খাগড়াছড়ির হাতিমুড়ায়।পাহাড়ের গায়ে অনেক উঁচু অসাধারণ সুন্দর একটি সিঁড়ি রয়েছে এখানে।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে অটোরিকশায় স্টেডিয়াম পেরিয়ে কিছুদুর যেয়েই বাম দিকে নদী পার হয়ে পাহাড়ে হাটতে হবে।এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞেস করতেব পথ দেখিয়ে দেবে।
সকালে গেলে ফিরতে দুপুর হবে।
*সাজেকে মোটামুটি মানের সব কটেজ ঈদের সময়ের জন্য ইতিমধ্যে বুক হয়ে গেছে,তাই যাওয়ার আগে থাকার ব্যাবস্থা করেই যাবেন, নাহয় যেয়ে প্রব্লেমে পড়তে হতে পারে।
আদিবাসী বাসাতেও থাকতে পারেন মোটামুটি কম খরচে,তবে এখানে বাথরুম সুবিধা ভালোনা।
*অবশ্যই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে যাবেন।সাথে অডোমস ক্রিম রাখবেন।
ছবি সাজেকের রুইলুই পাড়া হেলিপ্যাড থেকে তোলা।
#### একাকী ভ্রমনের পরামর্শ ###
.
আমরা সবাই কমবেশি ঘুরতে পছন্দ করি । বছরের অন্তত ২/৩ বারতো যাওয়া হয়। সাধারণত আমরা বন্ধুদের সাথে বা পরিবারের সাথেই যাই। কিন্তু একা কি কখনো গেছেন ? শুধু নিজের সাথে ? নাহ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর না হবে। কারন আমার ভয় পাই একা চলতে । আমরা চাইনা হোটেল থেকে শুরু করে গাড়ি, খাওয়া- দাওয়া ঝামেলা নিতে । আরেকজনের উপর সব চাপিয়ে দিয়ে ঘুরতে আমরা বেশি পছন্দ করি। কিন্তু কখনো কি মনে হয়নি একবার যাই , শুধু নিজের সাথে । যেখানে আপনি শুধু একাই হাঁটবেন , একাই সব সিধান্ত নেবেন , যা মন চায় তাই করবেন ।
আমি কিন্তু একা ভ্রমন ইচ্ছা করে শুরু করিনি, একটা ট্যুরে যার সাথে যাওয়ার কথা ছিল, তার সাথে সময় না মেলায় একা যাওয়ার প্ল্যান মাথায় আসে, এরপর থেকে একা ভ্রমনে আমার ভাললাগা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লগ পরে জানতে পারি, একা পর্যটকদের সবারি প্রায় একি রকম গল্প।
একা ভ্রমনের কিছু ব্যাপার আছে, যা আপনাকে যাওয়ার আগে অবশ্যই জানতে হবে । কারন আপনি একা যাবেন, ওখানে আপনাকে পরামর্শ দেবার মতো কাওকে পাবেন না । তাহলে আসুন জেনে নেই একা ভ্রমনের কিছু পরামর্শ ।
১. ব্যাগ একটাই নেবেন । সুটকেস টাইপের না, ব্যাক পেকার বা পেছনে ঝুলন্ত ব্যাগ নিবেন । এতে আপনার চলাচলে সুবিধা হবে । ব্যাক পেকার নিউ মার্কেটে পাবেন ,দাম ১২০০-২০০০ টাকার মধ্যে ।
২. দেশের বাইরে গেলে পাসপোর্ট সহ গুরুত্বপূর্ণ পেপার কপি করে রাখা ভালো ।
৩. ভ্রমনের যা বাজেট করেছেন তার থেকে আর বেশি টাকা নিয়ে যাবেন । দেশের বাইরে আপনার টাকা শেষ হয়ে গেলে টাকা পাবেন কোথায় ? তাই বেশি করে নিয়ে যাবেন ।
৪. যেখানে যাবেন ঠিক করেছেনে, তার সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করুন । তথ্য না নিয়ে গেলে বিপদে পড়তে পারেন।
৫. গুগল ম্যাপ ব্যাবহার করা শিখুন । এটা ভালোভাবে ব্যাবহার করতে জানলে আপনার হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা কম ! অনেক সময় ট্যাক্সিওয়ালা বলবে অমুক যায়গা অনেকদূর, এত টাকা লাগবে, তখন আপনি ম্যাপে দেখে নিতে পারেন আসলেই কতদুর !
৬. পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই সাথে নেবেন । যারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবেন, তাঁরা যাত্রাপথে পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই নেবেন । এতে আপনার মোবাইল বন্ধ হবে না , আর আপনার পরিবার দুশ্ছিন্তা মুক্ত থাকবে ।
৭. টাকা এক জায়গায় রাখবেন না । ভাগ করে ব্যাগ সহ ভিবিন্ন জায়গায় রাখবেন ।
৮. ধরুন আপনার ফিরে আসতে লাগবে ২০০০ টাকা , তাহলে আপনি ৫০০০ টাকা প্রথমেই আলাদা করে রাখবেন । যত যাইহোক আসার আগ পর্যন্ত এই টাকাতে হাত দিবেন না ।
৯. একা ভ্রমনে গেলে আপনি কথা না বলে থাকতে পারবেন না, আসে পাশের মানুষের সাথে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি কথা বলবেন । কিন্তু সাবধান , অনেক দুষ্ট প্রকিতির মানুষ আছে যারা আপনার সাথে খাতির করে ক্ষতি করতে পারে । তাই দেখে শুনে মিশবেন ।
১০. দেশের বাইরে দেশি ভাই বা বিদেশি ভাই যদি একি হোটেল রুমে থাকার অহবান করে তো ভুলেউ যাবেন না। কারন আপনি জানেন না তিনি কে ! বিপদে পড়ার থেকে একা থাকাই উত্তম ।
১১. অনেকেই ভাবেন একা গেলে ছবি তুলে দিবে কে ? আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি পর্যটকরা একে অপেরের ছবি তুলে দেয় । আমাকেও অনেকের ছবি তুলতে হয়েছিলো । যদিও DSLR হাতে থাকায়, আমাকে অনেকে ক্যামেরা ম্যান ভেবেছিলো !
১২. প্রয়োজনীয় ওষুধ নিন। মাথা বেথা থেকে শুরু করে জ্বর, পেট খারাপের ওষুধ নিতে ভুলবেন না
১৩. নিয়মিত হোটেল আর কোন এলাকায় আছেন তার আপডেট পরিবার বা কাছের কাওকে জানাবেন।
১৪. নিজের মতো করে সময় কাটান, উপভোগ করুন।
একা ভ্রমন আপনার অনেক বড় একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। অনেক গল্প , অনেক সৃতি জমা হবে যা আপনি আপনার নাতি -নাতনিকে শুনাতে পারবেন । পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজেই হাঁটুন , নিজের স্বাধীনতাকে কাজে লাগান। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য একা ভ্রমন অনেক জরুরী । জীবনে অন্তত একবার একা ভ্রমনে যাওয়া উচিৎ। মনে রাখবেন যারা বাধা দিবে তার আসলে ভীতু , একা যাওয়ার সাহস তাদের নেই। আমি এখন একা ভ্রমন করতেই পছন্দ করি, সামনে আবারো একাই যাওয়ার পরিকল্পনা আছে ।