Monday, June 27, 2016


যারা ঈদে সাজেক/খাগড়াছড়ি যাচ্ছেন-
অনেকেই প্রথমবার যাওয়ার কারনে এবং পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় ট্যুর প্ল্যানে উল্টাপাল্টা হয়ে যায়,যার জন্য অনেক সময় ট্যুরের মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়।
এখানে মোটামুটি ২/৩ দিনের প্ল্যান দেয়া হয়েছে।
দিন ০১:খাগড়াছড়ি শহরে নেমেই শাপলাচত্বরে জীপ/মাহিন্দ্র পাবেন।১২/১৫ জন যাওয়া যায়।দুইদিনের সাজেক যাওয়াআসার জন্য নর্মালি ৬-৭ হাজার নেয়,তবে ঈদের সময় কিছুটা বেশি নিতে পারে।দরদাম করে নেবেন।যদি ১/২ জন হন সেক্ষেত্রে দিঘীনালা চলে যাবেন লোকাল গাড়িতে, সময় লাগবে ৩০ মিনিট, ভাড়া ৪০-৬০ টাকা প্রতিজন।দিঘীনালা থেকে বাইক পাবেন দুজন ৬০০ টাকা নেবে সাজেক দিয়ে আসার জন্য।
ঈদের সময় তাই শহরে জীপ নাও পেতে পারেন,সেক্ষেত্রে লোকাল পরিবহনে দিঘীনালা যেয়ে দিঘীনালা থেকে জীপ নিতে পারেন।
দিঘীনালার আরেকটু সামনে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে এসকর্ট যায় সকাল ১০:৩০ এ,তাই কোথাও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বাঘেরহাট যেয়ে আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করে ফেলাই ভালো।আরেকটি এসকর্ট যায় বিকেল ৩টায়।কোন কারনে সকালের এসকর্ট মিস করলে বিকেলে যেতে হবে।খাগড়াছড়ি থেকে বাঘাইহাট ১ঘন্টার মত লাগে।
বাঘাইহাট পৌঁছে সাজেকে যেখানে থাকছেন/বুকিং করা আছে তাদের ফোন করে খাবারের অর্ডার করে দেবেন,কারন যেতে যেতে প্রায় লাঞ্চ টাইম হয়ে যায়,অর্ডার করা থাকলে যেয়েই রেডি খাবার পাবেন।
সাজেকে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে চলে যেতে পারেন কংলাক পাড়ায়।এটি সাজেকের সর্বোচ্চ চুড়া।এখানে ত্রিপুরা এবং লুসাই আদিবাসীদের বসবাস। রুইলুই পাড়া থেকে এর দুরত্ব প্রায় তিন কি.মি.।হেটেই জেতে হবে,গাড়ি মাঝেমধ্যে যায় তবে প্রায়ই রাস্তা খারাপ থাকে।
দিন০২: সকালে নাস্তা করে পাড়ায় কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করতে পারেন,সাজেক থেকে সকালের আর্মি এসকর্ট ১১টায়।বিকেলেরটা ৩টায়।
ফেরার সময় অবশ্যই নামবেন বাঘেরহাটের হাজাছড়া ঝর্নায়,রাস্তা থেকে সহজ ট্রেইলে ১০/১৫ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন ঝর্না।এখন প্রচুর পানি পাবেন।
খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে লাঞ্চ সেরে সময় নষ্ট না করে চলে যাবেন রিসাং ঝর্নায়।রিজার্ভ গাড়ি থাকলে ভালো,লোকাল পরিবহণও আছে।
রিসাং থেকে ফেরার পথে ঘুরে আসবেন আলুটিলা প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ।
শহরে ফিরে যদি সময় থাকে ঘুরে আসতে পারেন জেলাপরিষদ পার্ক,শহরের পাশেই।ঝুলন্ত কাঠের সেতু এবং লেক আছে এখানে।
রাতের ঢাকার সব বাস ছাড়ে রাত ৯টায়।
*একদিন সময় বেশি থাকলে ঘুরে যেতে পারেন দিঘীনালার তৈদুছড়া ঝর্না থেকে।কয়েকটি ঝর্না ছাড়াও অসাধারণ ট্রেইল রয়েছে এখানে।কিছু রিস্কি জায়গা আছে তাই ট্রেকিং এ অভস্ত্যরাই যাবেন।
*নিরাপত্তার কারনে সিজুক ঝর্নায় এখন আর্মি যেতে দিচ্ছেনা,তাই এটি লিস্টে না রাখাই ভালো।
*সময় করে যেতে পারেন খাগড়াছড়ির হাতিমুড়ায়।পাহাড়ের গায়ে অনেক উঁচু অসাধারণ সুন্দর একটি সিঁড়ি রয়েছে এখানে।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে অটোরিকশায় স্টেডিয়াম পেরিয়ে কিছুদুর যেয়েই বাম দিকে নদী পার হয়ে পাহাড়ে হাটতে হবে।এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞেস করতেব পথ দেখিয়ে দেবে।
সকালে গেলে ফিরতে দুপুর হবে।
*সাজেকে মোটামুটি মানের সব কটেজ ঈদের সময়ের জন্য ইতিমধ্যে বুক হয়ে গেছে,তাই যাওয়ার আগে থাকার ব্যাবস্থা করেই যাবেন, নাহয় যেয়ে প্রব্লেমে পড়তে হতে পারে।
আদিবাসী বাসাতেও থাকতে পারেন মোটামুটি কম খরচে,তবে এখানে বাথরুম সুবিধা ভালোনা।
*অবশ্যই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে যাবেন।সাথে অডোমস ক্রিম রাখবেন।
ছবি সাজেকের রুইলুই পাড়া হেলিপ্যাড থেকে তোলা।

No comments:

Post a Comment