Sunday, July 10, 2016

গারো পাহাড়ের পাদদেশ শেরপুর ভ্রমনের A to Z বিস্তারিত তথ্যঃ আপডেট ০৭-০৮-২০১৫
File Link (Short Url): https://goo.gl/Pw4lDS (লিঙ্ক দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাই এই লিঙ্ক ব্যাবহার করবেন)


প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্ত কন্যা গারো পাহাড়ের সুষমা মন্ডিত শেরপুর একটি অতি প্রাচীন জনপদ। দেশের ছোট্ট সুন্দর প্রান্তিক জেলা শেরপুর। অতি প্রাচীনকালে শেরপুর কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বিশাল চওড়া ও খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে শেরপুর পৌঁছতে সময় লাগত এক প্রহর বা তিন ঘন্টারও বেশী। এই পারের পারানি ছিল দশকাহন কড়ি বা সুলতানী দশ টাকা। তাই এ অঞ্চলকে তখন বলা হতো ‘দশকাহনিয়া বাজু’(বিভাগ)। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভাওয়ালের গাজীগণ ঈশা খাঁর বংশধরদের কাছ থেকে দশকাহনিয়া পরগণা দখল করে নেয়। গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজীর নামানুসারে দশকাহনিয়ার নামকরণ করা হয় - শেরপুর। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইক্তার উদ্দিন উজবেগ তুগ্রলখা, ১৪৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় ফিরোজ শাহ, ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে হুসেন শাহ, পরবর্তীতে পাঠান সম্রাট শেরশাহ, মোগল সম্রাট বাবর, হুমায়ুন, আকবর- এমনি আরও অনেক রাজা-বাদশাহগণ এ অঞ্চল শাসন করতেন।

এই ডক এ যা যা আছেঃ

১. ঢাকা থেকে কিভাবে যাওয়া যায়?

২. যাতায়াত ভাড়া কেমন পরবে?

৩. রাতে থাকার ব্যবস্থা কোথায়,কিভাবে, খরচ?

৪. খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আর খরচ?

৫. দর্শনীয় স্থান গুলোর লিষ্ট।

৬. লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা ও খরচ।

৭. ক্যাম্পিং এর সুবিধা আছে কি নাই?

৮. কোন ঋতুতে গেলে কি কি সুবিধা/অসুবিধা?

৯. কি কি জিনিস সাথে নেয়া প্রয়োজন?

১০. টিপস ।

এ ছাড়া আর যা যা প্রয়োজনীয় ইনফো আপনার কাছে আছে প্লিজ ইমেইল করুন zahid.shopno@gmail.com এ অথবা টেক্সট করুন এই আইডি তে (https://www.facebook.com/zahidibnejahan)। সেই অনুযায়ী ডক টা আপডেট করা হবে।

আরো কিছু ইনফো আছে যেগুলো আমি Add করে দিব Step By Step.

*** এর বাইরে কোন প্রশ্ন থাকলে শেয়ার করুন।

ধন্যবাদ !!!

ঢাকা থেকে কিভাবে যাওয়া যায়? যাতায়াত ভাড়া কেমন পরবে?

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ফিডার রোড নির্মিত হওয়ায় শেরপুর জেলার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়কপথে সাড়ে চার ঘণ্টায় শেরপুর পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে শেরপুর আনুমানিক দুরত্ব ১৯৮ কিঃমি । এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়াত খুব সহজ।রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে।

ঢাকা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুর জেলা সদরে বেশ কিছু ভালো বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে নন এসি- সাদিকা (Its the Speed Master of Dhaka - Sherpur Road ফোনঃ01712-119181), বধুয়া, শাহীমনি, সোনার বাংলা, SA পরিবহন (ফোনঃ 01724191118 ) ও স্পেশাল ড্রীমল্যান্ড সার্ভিস উল্লেখযোগ্য। সবগুলো গাড়ি হিনো। সীট গুলোও বেশ ভালো। জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ২৫০ - ৩০০ টাকা।  এসি সার্ভিস - (ফোনঃ 01734190665, 01735621796) এসি ডিলাক্স ও এসি সুপার ছাড়ে দুপুর ২টায়, জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। এছাড়া গুলিস্তান বাইতুল মোকাররম মার্কেট এর সামনে / ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরী বিকাল ৩-৪টায় থেকেও বেশ কিছু ভাল বাস ছেড়ে যায় শেরপুর এর উদ্দেশ্যে। এদের মাঝে নন এসি- শেরপুর চেম্বার অব কমার্স, শেরপুর শিল্প ও বনিক সমিতি, শেরপুর কালেক্টরেট কর্মচারী সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠনের বাস সার্ভিস আছে। জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ২৫০ - ৩০০ টাকা। কিছু কিছু বাস শহরের নবীনগর এ অবস্থিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যায়, আবার কিছু বাস শহরের ভেতরে নিউমার্কেট পর্যন্ত যায়। এক্ষেত্রে বাস টার্মিনাল এ নামলে রিকশা নিয়ে শহরের ভিতরে যেতে হবে ভাড়া ১৫-২০ টাকা। ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক দিয়েও যেতে পারেন ভাড়া ৫-১০ টাকা জনপ্রতি।

রাতে থাকার ব্যবস্থা কোথায়, কিভাবে, খরচ?

কেউ যদি শেরপুর এসে রাত্রিযাপন করতে চান তবে শেরপুর জেলা সদরেই থাকতে হবে। কারণ সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার কোনো স্পটেই রাত্রীযাপনের কোনো ব্যবস্থা বা অনুমতি নেই। এছাড়া নিচে উল্লেখিত স্থানগুলোতে এমনকি ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি, শ্রীবর্দী উপজেলা সদরে রাত্রিযাপন করার মতো কোনো ভালো আবাসিক হোটেল নেই। শেরপুর জেলা শহরে হাতে গোনা দুই/তিনটি ভালো মানের আবাসিক হোটেল ছাড়াও ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঝিনাইগাতী ডাকবাংলো অথবা বন-বিভাগ ডাকবাংলোও থাকতে পারবেন।  সেগুলোতে রাত্রি যাপন বা রেস্ট নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসে অগ্রিম বুকিং দিতে হবে।

জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের প্রতিরুম এক রাতের জন্য ভাড়া ৫০ টাকা, এলজিইডির প্রতিরুম ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সার্কিট হাউজের প্রতিরুম ৪০০ টাকা ভাড়া নেয়া যায়। তবে ওই রেস্ট হাউজে সরকারি কর্মকর্তাদের নামমাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা দিয়ে রাত্রীযাপন করতে পারবেন। এছাড়া শহরের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- হোটেল সম্পদ ও কাকলি গেস্ট হাউজ অন্যতম। এসব হোটেলের রুম ভাড়া নন এসি ডাবল ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এসি রুমের ভাড়া ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। 

যোগাযোগঃ

হোটেল সম্পদ প্লাজা (আবাসিক)
টেলিফোন নম্বর
০৯৩১-৬১৭৭৬

কাকলী গেষ্ট হাউজ (আবাসিক)
টেলিফোন নম্বর
০৯৩১-৬১২০৬

বর্ণালী গেষ্ট হাউজ (আবাসিক)
টেলিফোন নম্বর
০৯৩১-৬১৫৭৫

আরাফাত গেষ্ট হাউজ (আবাসিক)
টেলিফোন নম্বর
০৯৩১-৬১২১৭

খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আর খরচ?

শেরপুর জেলা শহরে ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে হাতে গোনা ৪ থেকে ৫টি। সকালের নাস্তায় শেরপুর শহরের কাকলি মার্কেট এর নিচে প্রিন্স হোটেলের ভুনা খিচুরি খেতে ভুলবেন না। দুপুর ও রাতে খাবার জন্য নিউ মার্কেট এর হোটেল শাহজাহান, শাহী খানা খাজানা, বাগান বাড়ি রেস্টুরেন্ট, হোটেল আহার কিংবা কাকলী মার্কেটের হোটেল প্রিন্স বিখ্যাত।এসব হোটেল অগ্রীম বুকিং ও অর্ডার সরবরাহ করা হয়।

শাহী খানা খাজানা
টেলিফোন নম্বর
০৯৩১-৬১৬৪৭

হোটেল শাহজাহান
টেলিফোন নম্বর
০১৯১১৪১১৭৭১


সীমান্ত এলাকায় ভালো মানের কোনো খাবার হোটেল নেই। তবে জেলার বাইরে থেকে এ সীমান্ত এলাকার গারো পাহাড়ে বেড়াতে এসে রান্নার ব্যবস্থা না করতে পারলে শহরের ওইসব খাবার হোটেল থেকে খাবারের জন্য অগ্রিম বুকিং দিলে প্যাকেট সরবরাহ করা হয়।

নয়ানী বাজার গোয়ালপট্টি থেকে নন্দগোপাল এর মালাইকারি মিষ্টি, দই, রসমালাই, রাজ বল্লভ এর জিলাপি খেতে ভুলবেন না। সত্যবতি ও লিখন সিনেমা হলের সামনে পান দোকান থেকে ১০০ আইটেম এর অধিক মশলা দিয়ে মিষ্টি পান খেতে মিস করবেন না।

শেরপুর এর খাবার মান যথেষ্ট ভাল ও দাম অনেক কম।

দর্শনীয় স্থান গুলোর লিষ্ট ও বিবরনঃ

১. গজনী অবকাশ কেন্দ্র , ঝিনাইগাতি।
২. মধুটিলা ইকোপার্ক, নন্নী, নালিতাবাড়ি।
৩. অর্কিড গার্ডেন পর্যটন প্রকল্প, কান্দাপাড়া, কলাবাগান, শেরপুর।
৪. জরিপ শাহের মাজার, বারদুয়ারি মসজিদ , গড় জরিপার দুর্গ, শ্রীবরদি, শেরপুর।
৫. হজরত শাহ কামালের মাজার ,কসবার মুঘল মসজিদ ,নয় আনী জমিদার বাড়ি, শেরপুর।
৬. সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান, সন্ধাকুড়া, ঝিনাইগাতি।
৭. বারোমারি খ্রিস্টান মিশন, নন্নি, নালিতাবাড়ি।
৮. নাকুগাও স্থল বন্দর, নালিতাবাড়ি।
৯. রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনা
১০. সূতানাল দীঘি
১১. বন্যহাতির অভয়ারন্য নয়াবাড়ির টিল
১২. পানিহাটা-তারানি পাহাড়
১৩. লাউচাপড়া , জামালপুর

গজনী অবকাশ কেন্দ্র , ঝিনাইগাতিঃ

পাহাড়ের ঢালে, গায়ে অথবা পাহাড় চূড়ায় সারি সারি শাল, সেগুন, মহুয়া, গজারী, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস, মিলজিয়ামসহ আরো নাম না জানা কত শত পাহাড়ি গাছ, বনফুল ও ছায়াঢাকা বিন্যাস যেন বিশাল ক্যানভাসে সুনিপুন শিল্পীর রঙ-তুলির আঁচড়। শিল্পীর এ আঁচড় খুব সহজেই প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যেতে পারে বলেই প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী নারী-পুরুষ, শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ সবাই ছুটে আসেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী গারো পাহাড়ের মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে। ঢাকা হতে ২৩৫ কিলামিটার উত্তরে শেরপুর জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে গারো পাহাড়ের পাদদেশে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত গজনীতে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অবকাশ কেন্দ্র। ঢাকার সন্নিকটে এমন পর্যটন কেন্দ্র আর একটিও নেই যেখানে একই সাথে পাহাড়, হ্রদ, বন জঙ্গল ও হাজার পাখির কলতান পাওয়া যায়।

ভারতের মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে ও বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে অরণ্যরাজি আর গারো পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড়ি নদী ভোগাই, চেল্লাখালি, মৃগী, সোমেশ্বরী, মালিঝি, মহারশীর ঐশ্বরিক প্রাচুর্যস্নাত অববাহিকায় সমৃদ্ধ জনপদ শেরপুর। এ জেলার বিশাল অংশজুড়ে গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি। লাল মাটির উঁচু পাহাড়। গহীন জঙ্গল, টিলা, মাঝে সমতল। দু’পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ছন্দ তুলে পাহাড়ী ঝর্ণার এগিয়ে চলা। পাহাড়, বনানী, ঝরণা, হ্রদ এতসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেও কৃত্রিম সৌন্দর্যের অনেক সংযোজনই রয়েছে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে। গজনী খুব সহজেই প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে রেখাপাত করতে পারে বলেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনীতে। যেখানে প্রায়ই হানা দেয় বুনো হাতির দল।
ঝিনাইগাতির সীমান্তবর্তী এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে ১৯৯৩ সালে তত্কালীন জেলা প্রশাসক আতাউর রহমান মজুমদার গড়ে তোলেন ‘গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র’। সেখানে প্রায় ২শ’ ফুট উঁচুতে পাহাড়ি টিলার উপর নির্মিত হয় ৩ কক্ষবিশিষ্ট অবকাশ ভবন। প্রাচীনতম বটবৃক্ষকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র।
এটি ঝিনাইগাতি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গজনীতে অবস্থিত। যাবার পথে রাংটিয়া ছেড়ে কিছু দূর এগোলে দুপাশে গজারি গাছের ছাউনিতে ঢাকা কালো পিচঢালা পথটি সবার মন কাড়বে। এ পথ গিয়ে শেষ হয়েছে একটি হ্রদের সামনে। লালমাটির উচু-নিচু,পাহাড়,টিলা, পাহাড়ী টিলার মাঝে সমতল ভূমি। দুই পাহাড়ের মাঝে পাহাড়ী ঝর্ণা একে বেঁকে এগিয়ে চলছে। ঝর্ণার পানি এসে ফুলে ফেপে উঠছে। সেখানে বাধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম লেক। লেকের মাঝে কৃত্রিম পাহাড় এবং পাহাড়ের উপর “লেক ভিউপেন্টাগন”। সেখানে যাতায়াতের জন্য রয়েছে দোদ্দুল্যমান ব্রীজ। লেকে নৌ-ভ্রমণের জন্য আছে পা চালিত নৌকাসহ ময়ূরপঙ্খী নাও। এখানে দূর পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড় চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে দূরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সীমানা চোখে পড়ে শেরপুর জেলায়। সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে যেদিকেই দৃষ্টি যাবে সবুজ আর সবুজ। দূরে পাহাড় চূড়ার সঙ্গে মেঘের মিতালী। এখানকার কৃত্রিম পাতালপথটির নাম পাতালপুরী।
পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক সুবিধাসহ আধুনিক “দুতলা রেষ্ট হাউজ”। যে রেষ্ট হাউজ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে নামার জন্য আঁকা-বাকা “পদ্মাসিড়ি” রয়েছে। অবকাশের পাদদেশে সান বাঁধানো বেদীসহ বট চত্বর।
নৈস্বর্গীক সৌন্দযের লীলা ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ গারো পাহাড়। এখানকার সবুজ প্রকৃতি আপন করে নেয় ভ্রমন পিপাসুদের। শ্যামল বৃক্ষরাজীর মাঝ দিয়ে আকাঁ-বাকাঁ পাকা সড়ক পথ যেন সবুজ সুড়ঙ্গের দিকে ঢুকে যাচ্ছে ক্রমশঃ।

যা যা দেখবেনঃ

ভ্রমন পিপাসুদের জন্য গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিন্সেন্ট লেক, লেকের ওপর রংধনু ব্রীজ, কৃত্রিম জলপ্রপাত, পানসিতরী নৌকা, প্যান্ডেল বোড , মুক্তিযুদ্ধ স্মুতিসৌধ, শিশু পার্ক, কবি নজরুল ইসলাম ও কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক, মাটির নিচে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়তের জন্য ড্রাগন ট্যানেল মুখের ভিতর দিয়ে পাতালপুরি, লাভলেইন, মৎস্য কুমারী, কবিতাবাগ, হাতি, বাঘ, জিরাফ, হরিণ, ডাইনোসরের প্রতিকৃতি। অবকাশ কেন্দ্রে অন্যতম আকর্ষণ সাইট ভিউ টাওয়ার। ৮০বর্গফুট উচ্চ এ টাওয়ারে উঠলে দেখা যাবে পাহাড়ী ঢিলার অপরূপ বৈচিত্রময় দৃশ্য।  বন বিভাগ প্রকৃতির  সঙ্গে  মানুষের সখ্য গড়ে তুলতে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে একটি ক্যাকটাস পল্ল¬¬ী এবং মিনি চিড়িয়াখানাও গড়ে তুলেছে।  বর্তমানে শেরপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গজনীতে শিশু পার্কের শিশু কিশোরদের বিনোদনের জন্য পুতুল নাচসহ নাগরদোলা ও বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ আর সৌন্দর্য্যে ভরপুর গারো পাহাড়ের গজনীতে পর্যটক বা ভ্রমন পিপাসুদের বারতি পাওনা হলো আদিবাসী সম্প্রদায় গারো, কোচ, হাজং, বানাই, হদীসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর চাষাবাদ, জীবন প্রবাহ, কৃষ্টি, শিল্প এবং ভাষা ও সংস্কৃতি, এ জন্যই প্রতিদিন পর্যটক ও ভ্রমন পিপাসুদের ঢল নামে গজনীতে । গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রেষ্ট হাউজে প্রতিকক্ষ ব্যবহার করতে চাইলে (কেবল দিনের বেলার জন্য) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে অনুমতি ও বুকিং নিতে হয়। প্রতি কক্ষের জন্য ভাড়া ৫শ টাকা। নতুন করে সংযোজন করা হচ্ছে “ পবিত্র গজনী কুন্ড”। মাধবকুন্ডের আদলে তৈরি হচ্ছে এটি।

যেভাবে যেতে হবেঃ শেরপুর শহর থেকে গজনী যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস, টেম্পোসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন রয়েছে।

ভাড়াঃ 

  শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতি বাস ভাড়াঃ ৪০ টাকা। তারপর রিক্সায় প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে  গজনী ভাড়া ৮০- ১০০ টাকা ।
  শেরপুর থেকে গজনী আসা-যাওয়া সারাদিন সিএনজি ভাড়াঃ ১০০০ টাকা। থানার মোড় ও খোয়ারপাড় মোর এ সিএনজি ভাড়া পাওয়া যায়। (ভাড়া দর-দাম করে নিবেন)।


মধুটিলা ইকোপার্ক, নন্নী, নালিতাবাড়িঃ

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা শেরপুর জেলার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই গারো পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পর্বত বা পাহাড় ও লেক না থাকলেও এখানকার শাল-গজারি, ইউকিলিপটাস-একাশিয়া, সেগুন-মেহগিনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগালি ঘেরা ঊঁচু নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝোড়া ও ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোন প্রকৃতি প্রেমির হৃদয়কে আন্দোলিত করবে।  ওই সব পাহাড়ি টিলার উপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠির নানা সম্প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে উচু-নিচু পাহাড়ের গায়- মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসিদের ঘর-বাড়ি’র দৃশ্য মন ছুয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে।সেসঙ্গে এই গারো পহাড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার নর-নারী ও প্রেমিক-প্রেমিকার  মিলন মেলা ও হাট বসে। 
১৯৯৯ সনে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর “মধুটিলা ইকো পার্ক” নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে। গারো পাহাড় এলাকায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে এখন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শীত মওসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে বাস, মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার করে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুরা বেড়াতে আসছে। ফলে জেলা প্রশাসন ও সরকারের রাজস্ব খাতে প্রতি বছর আয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ময়মনসিংহ বন বিভাগ ১৯৯৯ সন থেকে ইকো পার্কের প্রাথমিক অবকাঠামো ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ দুই পর্যায়ে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ করে ২০০৬-০৭ অর্থ বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইকো পার্কের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরই ইকো পার্কের বিভিন্ন খাত থেকে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয় ৫২ হাজার ৮৩১ টাকা। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ১৩ লক্ষ ৬৯ হাজার  ৬৫৮ টাকা এবং ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে আয় হয় ২৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩০৬ টাকা এবং ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা এবং চলতি বছরে আরো আয় বৃদ্ধি হবে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।  এই ইকো পার্কে বর্তমানে সুদৃশ্য প্রধান ফটক, ডিসপ্লে¬¬ মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ী পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, মনোরম লেক ও বোটিং, স্টার ব্রীজ, স্ট্রেম্পিং রোড বা সুউচ্চ পাহাড়ে উঠার জন্য ধাপ রাস্তা (সিঁড়ি), মিনি শিশু পার্ক, মহুয়া রেষ্ট হাউজ, স্টীলের ছাতা, ইকো ফ্রেন্ডলি বেঞ্চ, আধুনিক পাবলিক টয়লেট, পার্কের প্রবেশ পথ ধরে যাওয়া বিভিন্ন সড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীব জন্তুর ভাষ্কর্য। এছাড়া আরো রয়েছে বিরল প্রজাতি, পশু পাখি আকৃষ্ট, ঔষধি ও সৌন্দর্য বর্ধক প্রজাতির গাছের বাগান, মৌসুমী ফুলের বাগান এবং সাত রঙের গোলাপ বাগান। পার্কের উচু টিলার উপর ৩ কামরা বিশিষ্ট সুদৃশ্য বাংলো বা ‘মহুয়া রেস্ট হাউজ’ ব্যাবহার করতে হলে ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিস থেকে প্রতিদিনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ টাকা ভ্যাটসহ মোট ৪৭০০ টাকায় ভাড়া নিতে হবে।আর ছোট ছোট পিকনিক স্পটগুলোর ভাড়া দৈনিক ৬৫০ টাকা। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত থাকতে পারবেন এখানে। সপ্তাহে সাতদিন খোলা। পিকনিক স্পট ভাড়া নেবার জন্যে যোগাযোগ করতে পারেন জনাব এনায়েত সাহেবের সাথে যিনি এখানকার রেঞ্জ অফিসার। তাঁর ফোন নম্বরটি হলো: ০১৭১২২৭২০২৪।

যেভাবে যাবেন : শেরপুর জেলা সদরের লোকাল বাস স্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ি উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাসে যাওয়া যাবে। এরপর মধুটিলা ইকো পার্ক পর্যন্ত রিক্সা বা ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় যাওয়া যাবে। এছাড়া শেরপুর জেলা শহর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিক্সা অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও ইকো পার্কে যাওয়া যাবে।

ভাড়াঃ 

  শেরপুর থেকে নন্নী বাজার বাস ভাড়াঃ ২৫ টাকা। এরপর মধুটিলা ইকো পার্ক পর্যন্ত রিক্সা ৬০/- বা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ১২০/- ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় ১৫০/- যাওয়া যাবে।

  শেরপুর থেকে মধুটিলা ইকো পার্ক আসা-যাওয়া সারাদিন সিএনজি ভাড়াঃ ১০০০ টাকা। থানার মোড় ও খোয়ারপাড় মোর এ সিএনজি ভাড়া পাওয়া যায়। (ভাড়া দর-দাম করে নিবেন)।

অর্কিড গার্ডেন পর্যটন প্রকল্প, কান্দাপাড়া, কলাবাগান, শেরপুরঃ

সবুজের সাথে মিতালি করতে চাইলে চলে আসুন শেরপুরের অর্কিড পর্যটন প্রকল্পে। শেরপুর জেলা শহরের মধ্যেই ব্যাক্তি উদ্দোগে গড়ে তোলা হয়েছে অর্কিড পর্যটন প্রকল্প। এ প্রকল্পে’র চারিদিকে রয়েছে সারি সারি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছ, মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাস আর সান বাঁধানো পুকুর। পুকুরের চারপাশে মাছ খেতে বসে থাকে সাদা-সাদা বক। সবুজ বাতায়নের ওই অর্কিড প্রঙ্গনের খাঁচায় খেলা করছে বানর, টার্কিছ, খোরগোশসহ দেশীয় বিভিন্ন জীবজন্তু। পিয়জন অথবা বন্ধ-বান্ধবদের নিয়ে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাতা এবং ছাতার নিচে রয়েছে বসার জন্য রয়েছে চেয়ার। চা, কফি ও সেভেন-আপ বা কোকাকোলা পানের জন্য রয়েছে ছনের তৈরী সুদৃশ্য ক্যান্টিন এবং রেস্ট হাউজ। এ যেন শহরের মধ্যে এক খন্ড সবুজের লীলা ভুমি। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাতে কাছে বেড়ানো বা শহুরে জীবনের এক ঘিয়েমি কাটাতে চমৎকার একটি পারিবারিক বিনোদক কেন্দ্র এই ‘অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র’।

শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া মহল¬লার স্থানীয় চাতাল ব্যাবসায়ী ও সৌখিন মনের অধিকারী মো: আজাহার আলী ১৯৯০ সালে প্রাথমিক ভাবে তার ধানের খলার পাশেই প্রায় সারে ৫ একর জমির উপর সম্পুর্ন ব্যাক্তি খরচে নানা জাতের দেশী-বিদেশী বনজ ও ফলদ গাছ-গাছরা রোপন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড’ বাগান। সেসময় ওই বাগান ‘কলা বাগান’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল। এরপর নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ওই বাগানের সৌন্দর্য হারানোর পর আবার ২০০৮ সাল থেকে অর্কিড মালিক আজাহার আলী তার মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করে নানা অবকাঠামো তৈরীর মাধ্যমে নতুন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড পর্যটন প্রকল্প’। এবার তার অর্কিডে প্রবেশ করতে সেচ্ছাদান হিসেবে ২০ টাকা করে ধার্য করেছেন। প্রতিদিন ওই অর্কিডে প্রেমিক জুটিসহ বন্ধু-বান্ধবসহ ক্লান্ত জীবনের একটু অবকাশ কাটাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছে শহরবাসী এবং জেলার অন্যান্য স্থানের লোকজন। বিশেষ করে ছুটির দিনে বেড়াতে আসা লোকজনের ভিড় বেশী হয়। কেউ যদি অর্কিড রিজার্ভ করে কোন প্রতিষ্ঠান বা পারিবারিক কোন অনুষ্ঠান করতে চায় তবে দিন চুক্তি ৫ হাজার টাকায় বুকিং করতে হয়। আপাতত রাত্রি যাপনের কোন ব্যাবস্থা না থাকলেও ভবিষ্যতে এখনে আবাসিক বাংলোসহ ভ্রমনবিলাসী ও বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুযোগ সবিধা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্কিট মালিক আজাহার আলী। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত (সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত) অর্কিডে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর কোন দর্শনার্থীকে ভিতরে থাকতে দেওয়া হয়না।

যেভাবে যাবেন : শেরপুর জেলা শহর অর্কিড পর্যটন প্রকল্প পর্যন্ত রিক্সা বা ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় যাওয়া যাবে।

ভাড়াঃ 

  শেরপুর থেকে অর্কিড পর্যটন প্রকল্প পর্যন্ত রিক্সা ৬০/- বা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ১২০/- ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় ১৫০/- যাওয়া যাবে।

লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা ও খরচঃ :

রেন্ট-এ কার-এর জন্যে। হযরত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন রেন্ট-এ কার-এর জন্যে। ফোন: ০১৭১৪৯৯০৩৪৭ অথবা সুমন ভাইয়ের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন: ০১৭৩৪১৮৩০৩৫। সিএনজি চালিত অটো রিক্সার জন্য হাসমত এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন আমার রেফারেন্স এ নাম বলবেন জর্জ, সাজুর ফ্রেন্ড ফোন:  ০১৭২৭ ৫৮০ ৪৯০।

ক্যাম্পিং এর সুবিধা আছে কি নাই?

ক্যাম্পিং এর সুবিধা নাই। কারন সন্ধার পর পাহাড়ে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ।

কোন ঋতুতে গেলে কি কি সুবিধা/অসুবিধা?

 ভ্রমনের জন্য মূলত শরৎকাল, শীতকাল আর বসন্তকাল বেস্ট.. বর্ষাকালে গেলে একটু পর পর বৃষ্টি তে ভিজতে হতে পারে, যথেষ্ট কাদা পাবেন আর কিঞ্চিত জোকের সমস্যা আছে পাহাড়ে। 

কি কি জিনিস সাথে নেয়া প্রয়োজন? ও টিপসঃ

তেমন কিছুই নেয়া লাগবে না, সব-ই পাওয়া যাবে, এরপরও যদি কিছু লাগে তাহলে শেরপুর শহরে পাওয়া যাবে। আপনার একান্ত প্রয়োজনীয় জিনিষ ও ঔষধ সাথে নিন। একটি ভ্রমন পিয়াসি সুন্দর মন ও মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার মন মানসিকতা সাথে নিন। টিপস ? লোকাল ট্রান্সপোর্ট এর ক্ষেত্রে ড্রাইভার এর সাথে দর কষা কসি করুন। পাহাড়ে আদিবাসীদের ছবি তুলবেন না। দলছুট হয়ে পাহাড়ে ঘুরবেন না। সীমান্ত এলাকায় নো-ম্যান্স ল্যান্ড এর দিকে যাবেন না। সর্বোপরি কোনপ্রকার ইন্ডিয়ান মাদক ক্রয়/ গ্রহন/পরিবহন/সীমান্ত এলাকায় এ সংক্রান্ত কোন দালাল এর সাথে কথা বলা বা লেনদেন করবেন না। সন্ধার আগে পাহাড়ি এলাকার স্পট গুলো ত্যাগ করবেন।

ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য সকল কে ধন্যবাদ। আরও তথ্য লাগলে আমার ইনবক্স এ নক করতে পারেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

হ্যাপি ট্রাভেলিং !!!


বিঃ দ্রঃ দয়া করে কেউ ডক টা এডিট করবেন না প্লিজ। প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন আমি করে দিব। এই ডক আগে অন্য একটি গ্রুপ এ আমার মাধ্যমে প্রকাশিত।


Saturday, July 9, 2016


ভারত

দার্জিলিং যাবেন কিভাবে? কোনপথে?
এম খোরশেদ আলম
দেশ দেখে বেড়ানোটা আনন্দের। কিন্তু সেটা যদি হয় আর্থিক সঙ্গতির মধ্যে, তবেই তা সম্ভব। বিভিন্ন মানুষের দেশ দেখে বেড়ানো বিভিন্ন রকম। বিলাসবহুল জীবনযাপন যারা করেন তারা একটু আভিজাত্যের ছাপ রেখেই দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে বেড়ান। কিন্তু সবার সঙ্গতি তো আর সমান নয়। আর সমান নয় বলেই কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে না?
 
যাবে। অবশ্যই যাবে। চারদিক থেকে নিজের আভিজাত্যকে একটু কাটছাঁট করে নিলেই তা সম্ভব। স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলেই আমাদের চোখের সামনে খুলে যাবে সৃষ্টির অনেক অজানা দুয়ার। আর সেই দুয়ার খুলেই চলুন চট করে বেড়িয়ে আসা যাক, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সুন্দর স্বপ্নপুরী দার্জিলিং থেকে।
কিভাবে যাবেন?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর নগরী পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির দার্জিলিংয়ে স্থলপথে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতে চাইলে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারি সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা নিয়ে রাত ১০টার সুপার সেলুন চেয়ার কোচে উঠে পড়ন বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ভাড়া জনপ্রতি আর কত সামর্থের মধ্যেই। ভোর ৭টা নাগাদ আপনি অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশন অফিসের কাছেই সব বাস থামে। প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পন্ন করে নিন ভ্রমণ কর ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। অবশ্য আপনি চাইলে ঢাকা থেকেই ভ্রমণ কর প্রদান করে যেতে পারেন সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায়। বুড়িমারী অতিক্রম করে ওপারে চ্যাংড়াবান্দা সীমান্তে পৌঁছে একইভাবে সম্পন্ন করে নিন আপনার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। ও ভালো কথা, আপনার বহনকৃত ইউএস ডলার চ্যাংড়াবান্দায় অবস্থিত সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করে নেবেন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে টাকা ভাঙাতে আপনাকে বেশ বেগ পেতে হবে।
চ্যাংড়াবান্দা থেকে সরাসরি ময়নাগুড়ির বাস ধরে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন শীর্ষেন্দু-সমরেশের উপন্যাসখ্যাত শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ভাড়া জনপ্রতি ৭০ ভারতীয় রুপি। সেখান থেকে ঝটপট ১২০ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিন দার্জিলিংগামী কমান্ডার জিপের টিকিট। হাতে শীতের পোশাক নিয়ে বসে পড়ন আপনার নির্ধারিত আসনে। ব্যস, মাত্র আড়াই ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন মেঘের দেশ স্বপ্নিল ভুবনের দার্জিলিংয়ে।
তাছাড়া কলকাতা থেকে যেতে চাইলে আপনাকে শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দার্জিলিং মেল ধরতে হবে। টিকিট সংগ্রহ করবেন ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টার ফেয়ারলি প্যালেস থেকে। অতঃপর প্রায় ৫৭৬ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৪ ঘণ্টার এক ট্রেন ভ্রমণ করে পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। স্টেশন থেকে প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে রিকশাযোগে চলে আসুন শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ১০-১২ রুপি ভাড়া পড়বে।
  সেখান থেকে ওই কমান্ডার জিপে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিংয়ে।

কোথায় থাকবেন?
পুঞ্জীভূত মেঘের কণা ভেদ করে আঁকাবাঁকা পথের ধারে পুরো দার্জিলিং শহরে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেলে প্রতিদিনের থাকা এবং খাওয়াসহ জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৮৫০-১২০০ রুপি করে। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই রয়েছে দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় জিপ, সার্বক্ষণিক গরম পানির ব্যবস্থা, ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ওষুধসহ যে কোন মুহূর্তে যে কোন সমস্যার তাৎক্ষণিক সেবা।
খাবার-দাবার
ট্যুরিস্টদের জন্য হোটেলগুলোতে সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুষ্টিকর ও রুচিসম্মত খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ট্যুরিস্টের আগমনের ফলে এখানকার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় একেবারে বাঙালি রুচিসম্মত খাবার-দাবারের জোগান দিয়ে থাকেন। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনার ছাড়াও হোটেল কর্তৃপক্ষ ভোরবেলায় বেড-টি এবং ডিনারের আগে ইভনিং-টির ব্যবস্থাও করে থাকেন।
কোথায় বেড়াবেন?
ছোট বড় মিলিয়ে বেড়ানোর জন্য প্রায় ১৭টি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে দার্জিলিং জুড়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত রেলওয়ে স্টেশন ঘুমছাড়াও আরও যেসব দর্শনীয় স্থান দেখে আপনার আনন্দময় অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে তা হচ্ছে;
সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অপূর্ব
  সুন্দর সূর্যোদয় দেখা। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রার্থনা-স্থান ঘুম মোনাস্ট্রি। ছবির মতো অপূর্ব সুন্দর স্মৃতিসৌধ বাতাসিয়া লুপ বিলুপ্ত-প্রায় পাহাড়ি বাঘ Snow Lupard খ্যাত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। পাহাড়ে অভিযান শিক্ষাকেন্দ্র হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট
সর্বপ্রথম এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং-রক- এর স্মৃতিস্তম্ভ। কেবল কারে করে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ভ্রমণ।
হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনে বসে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথিবীখ্যাত ব্ল্যাক টি পানের অপূর্ব অভিজ্ঞতা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী কেন্দ্র
  তিব্বতিয়ান সেলফ হেলপ্ সেন্টার। সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায়  ,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মনোরম খেলাধুলার স্থান দার্জিলিং গোরখা স্টেডিয়াম।
নেপালি জাতির স্বাক্ষর বহনকারী দার্জিলিং মিউজিয়াম। পৃথিবীর বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার জাপানিজ টেম্পল ব্রিটিশ আমলের সরকারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র
  কাউন্সিল হাউস লাল কুঠিরঅসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন খ্যাত আভা আর্ট গ্যালারি। শতবর্ষের প্রাচীন মন্দির দিরদাহাম টেম্পল। এসব নিদর্শন ছাড়াও আপনার মনের চিরহরিৎ জগতকে শুধু আনন্দময় নয়, এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করাতে চলে যেতে পারেন পাথর কেটে তৈরি রক গার্ডেনএবং গঙ্গামায়া পার্কে উপরোল্লিখিত দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও আপনার হদয় গহিন থেকে রোমাঞ্চিত করবে মহান সৃষ্টিকর্তার বিশাল উপহার হিমালয় কন্যা কাঞ্চন-জংঘা’, বিশুদ্ধ পানির অবিরাম ঝর্ণাধারা ভিক্টোরিয়া ফলস্এবং মেঘের দেশে বসবাসরত এক সুসভ্য জাতির সংস্কৃতি।
কেনাকাটা
দার্জিলিং শহরের লাডেন-লা রোডের কোল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় মার্কেট। দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য প্রায় সব জিনিসই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ক্রয়- ক্ষমতার মধ্যে। সবচেয়ে ভালো পাবেন শীতের পোশাক। হাতমোজা, কানটুপি, মাফলার, সোয়েটারসহ যে কোন প্রকারের লেদার জ্যাকেট পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দমতো মূল্যে। তাছাড়া ১০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন অসাধারণ কাজ করা নেপালি শাল এবং শাড়ি যা আপনার পছন্দ হতে বাধ্য। প্রিয়জনকে উপহার দিতে সর্বনিু ২০ রুপি থেকে ২৫০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন অ্যান্টিক্স ও নানাবিধ গিফট আইটেম, যা আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসা কেড়ে নিতে সক্ষম। তাছাড়া আকর্ষণীয় লেদার সু আর বাহারি সানগ্লাস তো আছেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশংকা একেবারেই নেই। তবে হোটেলগুলোতে কিছু নেপালি তরুণ-তরুণী ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে শাল, শাড়ি বিক্রয় করে থাকে। তাদের কাছ থেকে না কেনাটাই উত্তম।
ঝুঁকি
মানুষের জীবনটাই একটা বড় ঝুঁকি। তার পরেও সাবধানতা অবলম্বন করে ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার প্রয়াস পেয়েছে মানুষ দীর্ঘকাল। দার্জিলিং ভ্রমণেও ছোটখাটো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। মাঝে-মাঝেই পাহাড়ি অঞ্চলে
  ছোটখাটো ধস নামে। তবে সেটা বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। শীত বা গরমে সে ঝুঁকিটা একেবারেই নেই। আর গরম জামাকাপড় ব্যবহারে অবহেলা না করলে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকিটাও কমে যায় একেবারেই। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সবরকম বিষয়ে পরামর্শ করে চলাফেরা করলে স্থানীয় দালাল বা হারিয়ে যাওয়ার আশংকা থেকেও আপনি পেয়ে যাবেন পুরোপুরি মুক্তি।
মোট খরচ
স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলে শীত মৌসুমে মাত্র ১০,০০০ টাকার মধ্যেই আপনি সেরে নিতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিং দেখার যাবতীয় কার্যক্রম। ভালো কথা, এ হিসাবটা শুধু
  বুড়িমারী সীমান্ত পথের। কলকাতার শিয়ালদহ হয়ে গেলে এ হিসাব বেড়ে দাঁড়াবে সর্বসাকুল্যে ১৫০০০ টাকায়। আমাদের দেশে রয়েছে অসংখ্য ট্যুরিজম কোম্পানি, যারা দার্জিলিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে।


আশপাশে
দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে নেপাল শহরের নিকটবর্তীতে অবস্থান করছে মিরিক লেক ও পশুপতি মার্কেট। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জনপ্রতি ৪৫০ রুপি ভাড়ার মধ্যে আকর্ষণীয় জিপে ঘুরে আসতে পারেন। সেজন্য অবশ্য আরও একটি দিন বেশি অতিবাহিত করতে হবে দার্জিলিং শহরে। তবুও যাত্রার দিন থেকে নিয়ে সর্বমোট ৫ দিনেই সবকিছু ঘুরে-ফিরে আসতে পারবেন আপনার প্রিয়জনদের মাঝে অপূর্ব স্বপ্নিল অভিজ্ঞতা নিয়ে।
সুন্দরবন টুর ডিটেইলস - tour details of Sundarbans
সুন্দরবনে সাধারনত তিনি রকমের টুর হয়:
#শর্ট টুর: করমজল
এটা সুন্দরবনের প্রথম স্পট। মংলা থেকে চার ঘন্টায় ঘুরে আসা যায় অনায়াসেই, কোন পারমিসনের প্রয়োজন হয়না, ২৩ টাকার প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করলেই যথেস্ট। এখানে রয়েছে বনে হাটার জন্য একটি ট্রেইল ও ওয়াচ টাওয়ার, সুন্দরবনের অন্য স্পটগুলোতে হরিণ কুমির বা বানর দেখতে পান বা না পান করমজলে দেখতে পাবেন শিওর। কারন তাদেরকে বেধে রাখা হয়েছে। এ দৃশ্য অবশ্য যে কোন চিড়িয়াখানাতেও দেখা যায়।

#মাঝারি টুর: হারবাড়িয়া
আমার দেখা সু্ন্দরবনের সবচেয়ে গোছানো ও সুন্দর স্পট এই হারবাড়িয়া। চিড়িয়াখানা ছাড়া করমজলের সব গুনই আছে হারবাড়িয়ায়। এখানে পাবেন আরেকটু গহীন বনের অনুভুতি। এই স্পটটি সুন্দরবনের আরেকটু ভেতরে হওয়ায় ঘুরে আসতে একদিন পুরো লেগে যায়, অনেকে নৌকাতে রাতেও থাকে। বন বিভাগের পারমিশন ছাড়া ট্রেইলে হাটা যাবেনা। পাশ পারমিশন হয়ে গেলে আপনার সাথে দেয়া হবে একজন গান ম্যান। যেহেতু গান ম্যান সাথে যায়, তাই বুঝতেই পারছেন এটা কোন খেলনা বন নয়, হালুমের মোটামুটি কাছাকাছিই আছেন আপনি। এই স্পটে প্রায়ই দেখা মেলে বাঘের কাঁচা পায়ের ছাপ। তাই চোখ কান খোলা রাখুন!
নাব্বতা সংকটের কারনে মোংলা পোর্টে এখন আর বড় জাহাজ খুব একটা আসেনা। সব আনলোড হয় এই হারবারিয়ার মাঝ নদীতেই। তাই সেখানে গেলে আপনার দেখা মিলবে বিশাল দেহি সামুদ্রিক জাহাজ, যা আমাদের দেশী সাধারণ কার্গোগুলোর ২০-৫০ টার সমানও হয়)

#লং টুর: কটকা- কচিখালী-হারবাড়িয়া-করমজল
সুন্দরবনের পরিপুর্ন স্বাধ যদি কেউ পেতে চায় তাহলে তাকে এই টুরে যেতেই হবে। আগের স্পটগুলোও কভার করা হয় এই টুরে, সাথে যোগ হয় গহীন বনে প্রবেশ ও বাঘের রাস্তা ধরে হাটার সুযোগ।এই টুরে পুরো তিন দিন লেগে যায়। লঞ্চ নিয়ে চলে যাওয়া হয় সুন্দরবনের একেবারে শেষ মাথায়। গহীন বনের যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু হয়েছে বঙ্গপসাগর, সে দৃশ্য চোখে না দেথলে বলে বোঝানো যাবে না। সাধারণত বাঘ দেথা না গেলেও খোলা মাঠে হরিন দেখতে কটকায় খুব একটা ভাগ্য লাগেলা।এর পাশেই কচিখালী স্পট, সেখানেই অবস্থান কচিখালী বিচের। এই টুরে নৌকায় করে ঘুরা হয় ছোট খালে। বড়শি দিয়ে ধরা যায় মাছ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাঘের পায়ের ছাপ। তিন দিন খাওয়া দাওয়া সহ সব কর্মকান্ডই হয় লঞ্চে।

(খরচ নির্ভর করে সংখ্যা ও সময়ের উপরে তাই এ বিষয়ে কোন তথ্য লাগলে ইনবক্সে করতে পারেন। সময় করে সবাইকেই রিপ্লে দেয়ার চেস্টা করবো। বলতে পারবো তখন কেমন খরচ চলছে।)

ডিসেম্বর জানুয়ারী এই দুই মাস নিয়মিতই টুর অপারেটরদের প্যাকেজ থাকে। চাইলে তাদের প্যাকেজে অন্যান্যদের সাথে মিলে টুরে যাওয়া সম্ভব। আর নিজেরা যেতে চাইলে ছোট দুই একটি গ্রুপ মিলেও টুরে যাওয়া যেতে পারে। অথাবা নিজেরা ইভেন্ট করে কয়েকজন মিলে করা যেতে পারে ভ্রমন গ্রুপ। অনেকেরই হয়ত ধারনা ৪০/৫০ জনের কমে সুন্দরবন যাওয়া যায়না, কিন্তু মজার ব্যাপার হল মাত্র ৮-১০ জনেই হতে পারে একটি গ্রুপ, আর এর চেয়ে যত বেশিই হোক সমস্যা নেই। আর নিজেরা গ্রুপ করে গেলে খরচ পড়ে সাভাবিকের তুলনায় কম। তবে চাইলে
খুলনা ও মংলা দুই যায়গা থেকেই জাহাজে ওঠা যায়, কিন্তু খুলনার জাহাজগুলো মোংলা হয়েই যেতে হয়, তাই মোংলা থেকে ওঠাই বেটার।
আর ঢাকা থেকে মংলার যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালই বলা চলে। সায়দাবাদ থেকে সরাসরি বাস আছে, একেবারে ঘাটে নামিয়ে দেবে। বাস থেকে নেমে ৫০ কদম এগুলোই জাহাজ। তবে মোংলার সবই সেমি চেয়ার কোচ, দুই একজন লোক দাড়িয়েও নিতে পারে। এসিতে যেতে হলে বা ট্রেনে ভ্রমন করতে হলে যেতে হবে খুলনা। তবে সময় লাগবে বেশি। সেখান থেকেও মোংলা আসা যায় অন্য গাড়িতে। আর খুলানা থেকেও ওঠা যায় সুন্দরবনের লঞ্চে।

(আমার বাড়ি মোংলাতে, ঐ দিকের থাকা-খাওয়ার নিরাপত্তা বা অন্য যে কোন সমস্যায় যোগাযোগ করতে পারেন। যে কোন তথ্য লাগলেও বলতে পারেন বিনা সংকচে। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব হেল্প করবো। তবে শর্ত একটাই, আপনার এলাকাতে আসলে আমাকেও হেল্প করতে হবে কিন্তু :)


সিলেট to কক্সবাজার
প্রথমেই বলে রাখি আপনি যদি ব্যাচেলর হোন অথবা কম টাকায় কক্সবাজার ঘুরে আসতে চান তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য। যদিও শিরোনাম সিলেট টু কক্সবাজার কিন্তু এটা সবার জন্য হেল্পফুল হবে বলে আশা করছি। আমার সীমিত অভিঞ্জতা নিয়ে এই পোষ্ট তাই যদি কোন ভুল হয় তবে ক্ষমাপ্রার্থী।
যাত্রা শুরু:

·         প্রথমে আপনার বাসা থেকে রেলওয়ে স্টেশন 
·         সিলেট থেকে চট্রগ্রাম - ট্রেন সময় লাগে ৮ ঘন্টা ভাড়া শোভন চেয়ার ৩৬৫ টাকা।
·         স্টেশন বা রিয়াজ উদ্দিন বাজার থেকে নতুন ব্রিজ - সিএনজি সময় লাগে ১৫ মিনিট ভাড়া ১০ টাকা জনপ্রতি। 
·         নতুন ব্রিজের ওখান থেকে কক্সবাজার - বাসে সময় লাগে ৪ ঘন্টা ভাড়া ২৫০ (সাজেশন- সৌদিয়া বাস)

চট্রগ্রামে হোটেল:
হোটেল গোল্ডেন ড্রিম
রিয়াজ উদ্দিন বাজার, স্টেশনের উল্টো গলি, চট্রগ্রাম।
মোবাইল: 0312866861, 01743400228
আপনি যদি ব্যাচেলর হোন তবে এটি চয়েস করতে পারেন সীমিত সময়ের জন্য।
কক্সবাজার হোটেল:
গ্যালাক্সি রিসোর্ট লিমিটেড
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 03415115, 01711381912, 01611381912
ফসসাল গেষ্ট হাউস
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01868741155, 01840299390
রমজান কটেজ
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01815152618, 01842141523
আল জিয়া গেস্ট হাউস
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01860253921, 01816493474
আল মাহমুদ গেষ্ট হাউস
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01813291701, 01787113034
জি. এম. গেষ্ট হাউস
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01866494845, 01731323062
সী শার্ক রিসোর্ট
কলাতলী রোড, কক্সবাজার।
মোবাইল:

কক্সবাজার থেকে পার্সেলে শুটকী আনতে হলে -
বড় বাজার শুটকী আডৎ
বার্মিজ মার্কেট, প্রধান সড়ক, কক্সবাজার।
অভি: ০১৮১১৯৭৫৯০১ (বিকাশ নাম্বার)
ট্রেন ইনফোরমেশন
সিলেট থেকে- পাহাড়িকা সিলেট থেকে ছাড়ে সকাল ১০.১৫ মিনিটে চট্রগ্রাম পৌছে রাত ৮.০০ মিনিটে। শনিবার বন্ধ থাকে। উদয়ন সিলেট থেকে ছাড়ে রাত ১১.২০ মিনিটে চট্রগ্রাম পৌছে সকাল ৬.১০ মিনিটে। রবিবার বন্ধ থাকে।
চট্রগ্রাম থেকে-
পাহাড়িকা চট্রগ্রাম থেকে ছাড়ে সকাল ৮.১৫ মিনিটে সিলেট পৌছে সন্ধা ৫.৩০ মিনিটে। সোমবার বন্ধ থাকে। উদয়ন চট্রগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত ৯.৩০মিনিটে সিলেট পৌছে সকাল ৬.৩০ মিনিটে। রবিবার বন্ধ থাকে।
কিছু টিপস:
·         একা না গিয়ে চেষ্টা করবেন অন্তত ২জন যেতে। বেশি হলে আরো ভাল হয়।
·         সিলেট থেকে চেষ্টা করবেন রাতের ট্রেনে যেতে এবং সকালে গিয়ে সরাসরি চলে যান কক্সবাজার।
·         কলাতলীতে হোটেল নিবেন।
·         হোটেলের ভাড়া যা বলবে তার অর্ধেক বলবেন। পারলে আরো কম।
·         খাবার হিসাবে ফাস্টফুড বা মাংস ছেড়ে শুধু মাছ খাবেন।
·         কলাতলী থেকে হেটে হেটে বীচে যাবেন। রিক্সায় গেলে ২০ টাকা দাবী করবে যদিও ৫টাকার ভাড়া।
·         বীচে যাবার সময় সানগ্লাস, অতিরিক্ত একসেট পোষাক (শার্ট বা টি-শার্ট এবং পেন্ট), গামছা এবং লুঙ্গি নিবেন।
·         ভাটার সময় পানিতে নামবেননা।
·         জোয়ারের সময় পানিতে নামুন এবং অবশ্যই বেশি পানিতে যাবেননা।
·         স্থানীয় ক্যামেরাম্যান দিয়ে ছবি তোলালে ছবি প্রতি ৩টাকার বেশি দিবেননা। এবং নিজের মেমোরী কার্ডে ছবি নিবেন।
·         ক্যামেরাম্যান এর সাথে আগে থেকে চুক্তি করবেন যে, খারাপ ছবি নিবেননা।
·         ঘোড়া, তিন চাকার বাহন থেকে সাবধান। এইগুলি না ছড়াই উত্তম।রাতে ১২টার দিকে সমুদ্রের গর্জন শুনবেন।
·         বার্মিজ মাকের্টে গেলে বার্মিজ মেয়েদের কথা শুনে মুগ্ধ হবেননা। এরা যত টাকা বলবে তার ৪ ভাগের একভাগ বলবেন।
·         যাওয়ার সময়ই আসার টিকেট করে নিবেন।
·         কক্সবাজার থেকে না কিনে চেষ্টা করবেন চট্রগ্রাম থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। ‍
বাজেট:
হোটেল: সর্বনিন্ম ২০০ টাকা প্রতিদিন (সিঙ্গেল বেড)
সিঙ্গেল বেড পাওয়া কষ্টকর। ওরা ডাবল বেড দিবে এবং ৪০০ টাকা রাখবে।
খাবার: নাস্তা ৬০ টাকা, প্রতিবেলার খাবার: ২০০ টাকা জনপ্রতি।

তো সবকিছু তো জেনে গেলেন। এবার আপনার যাওয়ার পালা। এতগুলো টিপস্ এর বিনিময়ে আসার সময় অবশ্যই বার্মিজ আচার নিয়ে আসবেন আমার জন্য। :) ভাল থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।



রাজাদের নাটোরে


মুস্তাফিজ মামুন
নারদ নদীর তীরে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা নাটোর। এর উত্তরে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা, দক্ষিণে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা, পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে রাজশাহী জেলা। আত্রাই, বড়াল, নারদ ও নন্দকুঁজা জেলার প্রধান নদী। নাটোর জেলার উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো নিয়ে কড়চার এবারের বেড়নো

রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ
নাটোর জেলা শহরের বঙ্গজ্জল এলাকায় রয়েছে রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে রাজবাড়ির কামান। রাজবাড়িটির ভেতরে রয়েছে ৬টি দিঘি। আর পুরো রাজবাড়িটি বাইরের দিক থেকে লেক আকৃতির দিঘি দিয়ে ঘেরা। ভেতরে রয়েছে বড় তরফ ভবন নামে পরিচিত রানী ভবানীর রাজপ্রাসাদ। সপ্তদশ শতাব্দিতে নির্মিত সুরম্য এ ভবনটি আজও সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। জানা যায়, রাজা রামজীবন ১৭০৬-১৭১০ সালের কোনো এক সময় পুঠিয়ার রাজার নিকট থেকে প্রায় ১৮০ বিঘার একটি বিল দান হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজা রামজীবনের একমাত্র ছেলে কলিকা প্রসাদ মারা গেলে তার দত্তক ছেলের সঙ্গে রানী ভবানীর বিয়ে দেন।

উত্তরা গণভবন
জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ি, যা উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। নাটোরের রানী ভবানী তার নায়েব দয়ারামের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দিঘাপাতিয়া পরগনা উপহার দেন। এখানে তিনি গড়ে তোলেন বেশ কটি সুরম্য প্রাসাদ। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। পরে তার উত্তরসূরি প্রমোদনাথ রায় নতুন করে এখানে কয়েকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপাতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ সপরিবারে ভারত চলে যান। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এ রাজপ্রাসাদটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নজরে আসে এবং এর সংস্কার করা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ব্যবহার করে উত্তরা গণভবন হিসেবে । প্রায় ৪৩ একর জায়গাজুড়ে চারিদিকে লেক ও প্রাচীরবেষ্টিত এ রাজবাড়িটিতে ছোট-বড় বারোটি সুরম্য ভবন আছে। ভেতরে আছে ইতালি থেকে সংগৃহীত ভাস্কর্যে সজ্জিত বাগান। উত্তরা গণভবনের প্রবেশ পথে চারতলা বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির প্রবেশ দ্বার। আর এর চূড়ায় রয়েছে বিলেতের কোক অ্যান্ড টেলভি কোম্পানির শতবর্ষী প্রাচীন ঘণ্টা ঘড়ি।

চলনবিল
দেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিলের একটি অংশ পড়েছে নাটোরে। জেলার সিংড়া উপজেলায় রয়েছে চলনবিলের বড় একটি অংশ। এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের ওপর দিয়েই। শীতে এসব বিলের পানি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। সড়কের দু’পাশে এ সময় যেদিকে চোখ যায় শুধু অথৈ জলরাশি। নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাত্রাপথেই চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।

চলনবিল জাদুঘর
জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে আছে চলনবিল জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন বিচিত্র এ জাদুঘর। চলনবিলে প্রাপ্ত নানা নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরুদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এ জাদুঘরে। শনিবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।

হাইতি বিল
জেলাশহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে নলডাঙ্গা উপজেলায় আছে হাইতি বিল। প্রায় ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিলটি দেশের সবচেয়ে গভীর বিল। প্রায় বারো মিটার গভীর এ বিলে সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি।

কীভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলি থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন প্রভৃতি বাসে যাওয়া যায় নাটোর। এছাড়া রাজশাহীগামী যে কোনো বাসেই নাটোর আসা সম্ভব। ভাড়া ২৫০-৪০০টাকা।

এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বাথ ৩৮০ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৭৫ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। এছাড়া খুলনা থেকে রূপসা ও সিমান্ত এক্সপ্রেসে নাটোর আসা যায়। ভাড়া শোভন চেয়ার ১৪৫ টাকা, শোভন ১২০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
নাটোর শহরে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের চকরামপুরে হোটেল ভিআইপি (০৭৭১-৬৬০৯৭, নন এসি কক্ষ ১০০-২০০ টাকা)। মাদ্রাসা রোডে হোটেল উত্তরা (০৭৭১-৬২৫১৯, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা), মাদ্রাসা মোড়ে হোটেল মিল্লাত (০৭৭১-৬১০৬৫, নন এসি কক্ষ ১৮০ টাকা), কানাইখালীতে হোটেল আরপি (০৭৭১-৬২৫৭৯, নন এসি কক্ষ ১৭০ টাকা)। কানাইখালীতে হোটেল রুখসানা (০৭৭১-৬২৪৩১, নন এসি কক্ষ ১০০ টাকা)। নাটোর থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। ভালো কোনো হোটেলে থাকতে চাইলে রাজশাহী শহরে এসে থাকা যেতে পারে।

জরুরি প্রয়োজনে
জেলা সদর হাসপাতাল (০৭৭১-৬৬৯১২), সদর থানা (০৭৭১-৬৬৯১৭), ফায়ার সার্ভিস (০৭৭১-৬৬৯১১)

Friday, July 8, 2016

প্রথম বার বান্দরবন ভ্রমনের Tour Tips
Short URL - https://goo.gl/vTekMm
.
আমি প্রথম বান্দরবন যাই ২০০৭ এ। তেমন কিছুই জানতাম না। Facebook ছিল না, ToB ও ছিল না। প্রথমবার এসে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক দেখে ওয়াওওয়াও করতে থাকি। এগুলো সবই মুলত শহরেরআশেপাশে। সেবার ওইগুলো দেখেই পেটভরা গল্প নিয়ে ঘরেফিরি।
২য় বার এসে কেক্রাডং “জয়” করে বিজয়ী বেশে ঘরে ফিরি J
এরপর বেশ কয়েকবার বার বান্দরবন গেছি, অনেক কিছুই দেখেছি। তবে আরও অনেককিছু এখনো দেখার বাকি রয়ে গেছে।
শুধু মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল ইত্যাদি জায়গা দেখতে চাইলে পরিকল্পনা করবেন এভাবে- ১ম দিন সকালে পৌঁছে ফ্রেশহয়ে নাশ্তা করে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, স্বর্ণ মন্দির এসব দেখতেপারেন। ২য় দিন একটা জীপ ভাড়া (টাকা ২০০০/৩০০০) করে শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ঘুরে আসেন।
তবে বান্দরবন এর আসল ঐশ্বর্য দেখতে হলে আপনাকে আরও একটু ভিতরে ঢুকতেহবে। ২/৩ দিন পাহাড়ে হাঁটাহাঁটিকরতে হবে। আমি এখন সেই পথের কথা বলব।
দিন ১ –বান্দরবনশহরে পৌঁছে নাশ্তা করে একটা জীপ নিতে হবে রুমা বাজার পর্যন্ত। টাকা ২০০০/২৫০০ লাগবে। পৌছতে ঘন্টা দেড় লাগবে। সেখানে পৌঁছে গাইড নিতেহবে। গাইডের কয়েকটি সমিতি আছে। যেকোনো একটা থেকে একজনগাইড নিতে হবে। কেওক্রাডং পর্যন্ত গেলে দৈনিক ৪০০ করে মোট ১২০০টাকা লাগবে। জাদিপাই গেলে প্যাকেজ ২০০০/২৫০০ টাকার মত। তাদের দেয়া ফর্ম পুরনকরে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে সেখানে নাম এন্ট্রি করতে হবে। তারপর দ্রুত গাইডের সাথেগিয়ে জীপ ভাড়া করতে হবে বগা লেক যাওয়ার জন্য। ভাড়া ২০০০ টাকা। তবে বর্ষাকালে গাড়ি বগা লেকপর্যন্ত যায় না।
বগা লেকে ওঠার শেষ রাস্তাটুকু পার হতে অনেক কষ্ট হবে। খাড়া পাহাড়ে উঠতে হবে। আসলে এই জায়গাটুকু পারহতেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় সবার। কারন, সারারাত জার্নি করে, হইচই করে সবাই খুব ক্লান্ত থাকে। একারনেই কিছু মানুষ বগাউঠেই সিদ্ধান্ত নেয় আর আগাবে না। এটা ভুল সিদ্ধান্ত। আমি অনেক বাঘা বাঘা ট্রেকারদেরজিজ্ঞাসা করে দেখছি। ট্রিপের প্রথম দিন বগায় উঠতে সবারই অনেক কষ্ট হয়। ২য় দিন থেকে আর এত কষ্টহবে না।
বগায় পৌঁছে সিয়াম দিদি/ লারাম বা অন্য কারও কটেজেউঠতে হবে। কটেজ আগে থেকে ঠিক করে রাখা ভালো। এরপর লেকে গোছল করে বাকি দিনরেস্ট। এখন যেহেতু রুমা যেতে নৌকা লাগে না সেহেতু বেলা ১১/১২ টার মধ্যে বগায়পৌঁছে অনেকেই আরও সামনে এগিয়ে যায়। তবে যারা প্রথমবার যাচ্ছে, তাদের বগায় ১ম রাত থাকাউচিৎ। স্থানটা অনেক সুন্দর। (এখানে সেনেটারি টয়লেটআছে)।
দিন ২ (আয়েশি ভ্রমন)– ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিম ভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতেহবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতে হবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা হাটার পরে পাবেন কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” (সরকারি তথ্য মতে) পাহাড়।
লালার হোটেলে দুপুরেরে খাবার খেয়ে আবার ফিরতি পথে বগা।
অথবা দিন ২ (একটুখানিএডভেঞ্চার ভ্রমন) – ভোরে উঠে খিচুরি+ ডিমভাজি খেয়ে ভোর ৫.৩০ টার মধ্যেই রওনা হতে হবে কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। পথে চিংড়ি ঝর্না দেখতেহবে। ঝর্নার উপর পর্যন্ত গিয়েনা দেখলে কিন্তু বিরাট মিস। আগে পরে আরও কিছু ঝর্না পড়বে। কোন ঝর্নাতেই ১০/১৫ মিনিটেরবেশি সময় দেয়া যাবে না। মোট ৩/৩.৫ ঘণ্টা পরে পাবে কেওক্রাডং। বাংলাদেশের “সর্বচ্চ” পাহাড়। চুড়ায় ওঠার আগেই লালার হোটেলে দুপুরের খাবারঅর্ডার ও রাতে থাকার বুকিং দিয়ে দিবেন।
তারপরে ১০ টার ভিতরে দুপুরের খাবার খেয়ে পাসিং পাড়া হয়ে জাদিপাইপাড়া হয়ে জাদিপাই ঝর্না। কেওক্রাডং থেকে জাদিপাই যেতে কোন পাহাড়ে ওঠানাই, শুধু নামা আর নামা। ঘণ্টা ২/২.৩০ লাগবে পৌছাতে। শেষ ২০০ ফিট সাবধানে নামতেহবে। ৫০ ফিট পাটের মোটা দড়ি/কাছিসাথে করে নিয়ে গেলে এখানটায় নামতে সুবিধা হবে। লোকে বলে জাদিপাইনাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্না। কথাটির সাথে আমিও দ্বিমত নই। দেখলেআপনিও বোধ করি দ্বিমত করবেন না।
এখানে ঘণ্টা খানেক থেকে আবার ফিরতে হবে। আমরা ঐদিনই বগায় ফিরেএসেছিলাম। তবে সেটা বেশি কষ্টকর হতে পারে। আপনারা কেওক্রাডং এসেলালার হোটেলে ঐ রাত থাকবেন। (এখানে সেনেটারি টয়লেট আছে)।
দিন ৩ –অবশ্যইসূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠবেন। কেওক্রাডং এর চুড়া থেকে সূর্যোদয় অনেক বেশি সুন্দর। নাশ্তা করে ফিরবেন বগা। সেখান থেকে জীপ স্ট্যান্ডেগিয়ে আগেই ফোনে ঠিক করে রাখা জীপে করে রুমায় ফিরবেন।
১২ টার মধ্যে রুমায় পৌঁছে দুপুরের খাবার খেয়ে ট্রলার নিবেন রিঝুকফলস পর্যন্ত। ৮০০/১০০০ টাকা নিবে। ৩০/৪০ মিনিট লাগে যেতে। রিঝুক দেখে রুমা ফিরেআবার জীপে করে বান্দরবন।
বগাথেকে ঝিরিপথে হেঁটেও রুমা ফেরা যায়। ৬/৭ ঘণ্টা লাগে। পথটা অসাধারন সুন্দর।
রুমা থেকে বান্দরবন ট্রলারে করেও ফেরা যায়। ৩/৪ ঘণ্টা লাগবে। ৪০০০/৪৫০০ টাকা লাগতেপারে। ফিরতি পথে ৪০/৫০ কিমিসাঙ্গু দেখতে অনেক ভালো লাগবে।
এই পরিকল্পনায় ৩ দিন ঘুরে আসলে আর শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, চিম্বুক, মেঘলা ইত্যাদি জায়গায়যাওয়া অর্থহীন। কেওক্রাডং, জাদিপাইর কাছে এগুলোকেশিশুপারক মনে হবে।
এই ৩ দিনের টুরে আরও কিছু মশলা দেয়া যায়, তবে প্রথমবার হিসেবে সেটাবাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।


অবশ্য পালনীয় কর্তব্য –

== = = = = = = =
১) ভালো, মজবুত ব্যকপ্যাক নিবেন। হাতব্যাগ/ লাগেজ এসব চলবেনা, চলবে না¸ চলবে না।
২) পুরো টুরে নিজের ব্যাগ নিজের কাধে রাখতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় মেকাপবক্স/ পারফিউম ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে ওজন কমাতে। অতএব, কাপড় মাত্র ২ সেট নিবেন। অন্যান্য জিনিস যাই নিবেনভেবে নিবেন। অযথা ব্যাগ ভারী করলে পরে কাঁদতে হবে।
৩) ভালো, মজবুত স্যান্ডেল নিবেন। মাটিতে ভালো গ্রীপ করে, পিছলে যায় না এমন স্যান্ডেলনিবেন।
৪) সঙ্গে সবসময় আধা/এক লিটার পানি, সামান্য কিছু হাল্কা খাবাররাখবেন।
৫) কলার পটাশিয়াম পেশির জন্য উপকারী। পাহাড়ে উঠলে পেশির উপরঅনেক চাপ পরে। অতএব, বান্দরবন গেলে বান্দরের মত কলা খাবেন।
৬) বেশি স্যালাইন খেলে রক্তচাপ বাড়ে, ঘাম বাড়ে ফলে আরও বেশিপানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অতএব, সারাদিন চলার পথে বেশি স্যালাইন খাবেন না। পানি খাবেন। অনেক তৃষ্ণা পেলেও একবারেবেশি পানি খাবেন না। হটাত পেট ভারী হয়ে গেলে হাঁটতে পারবেন না।
৭) মশা প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই Ododmos লোশন নিবেন।
৮) হাটার সময় ফুটবলারদের মত আংলেট, নী-ক্যাপ পড়বেন।
৯) টর্চ নিবেন। কম কম জ্বালাবেন। চার্জ শেষ হলে চার্জ দেয়াঝামেলা।
১০) প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। অবশ্যই, অবশ্যই। যত দেরিতে রওনা হবেন, রোদে তত বেশি কষ্ট হবে। অলস কেউ থাকলে তাঁকে কক্সবাজারপাঠিয়ে দিন। বান্দরবন তার জন্য না।
১১) জোঁকের জন্য সবার সঙ্গে সামান্য লবন রাখবেন। জোঁক লাগলেই অযথা চেঁচামেচিনা করে আপনার পাশে জনকে লবন দিতে বলুন। জোঁক মরে যাবে।
১২) দল ১০ জনের হলে ৫ জনের ২ টা দলে হাঁটবেন। কেও যেন দলছাড়া না হয়েযায়।
১৩) ক্যাপ পড়বেন সবাই।
১৪) ছাতা/ রেইনকোট নিবেন।
১৫) ব্যাকপ্যাক কাভার নিবেন সবাই। বা সকল জিনিস বড় পলিথিনেভরে তারপর ব্যাকপ্যাকে ভরবেন।
১৬) সবাই ১টা করে পিঠে ঝুলানর মত দড়ি দেয়া কাপড়েরএক্সট্রা  ব্যাগ নিবেন ।
১৭) জ্বর, পেই কিলার,আমাশা, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেটইত্যাদি নিবেন।
  
 এবং দয়া করে
১৮) বিস্কুট/ চিপস/ চানাচুর ইত্যাদির প্যাকেট বা প্লাস্টিকের বোতল, অপচনশিল বস্তু ফেলবেন না যেখানে সেখানে। যেসব পাড়ায়ডাস্টবিন আছে সেখানে ফেলুন। না পারলেপুড়িয়ে ফেলুন।
________________________________________________________________
Info from "Proactive Bappy" ---
যারা বান্দরবান যেতে চান তাদের জন্য কিছু জরুরী ফোন নাম্বার,
চান্দের গাড়ীঃ জিয়া ড্রাইভারঃ ০১৮১২৫৭২৬৯১ ( ৪/৫ হাজার টাকা লাগে সারাদিন )।
হোটেল সাঙ্গুঃ ০১৫৫৬৫২৯৫৮৭ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতি রাত।দরাদরি করে নিবেন। হোটেলের মান খুব ভালো ) ।
হোটেল নিলগিরিঃ ০১৫৫৮৪২১৩১৯( ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি রাত, হোটেলের মান মোটামোটি ,ভাই ব্রাদার মিলে থাকতে পারবেন আর কি!)
যদি ৫০-৬০ জন গ্রুপ হয়ে যান তাহলে খাবার এর ব্যপারে যোগাযোগ করতে পারেন রুপসি বাংলা রেস্তোরায় ; ০১৮৪৯৮৮১৫৪০ (খাবারের মান ভালো